সত্যিই কি ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ?

পৌনে শতাব্দী আগে, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির জন্ম হয়েছিল, সাতাত্তর বছর পেরিয়ে আজ সেই আওয়ামী লীগ নিজের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার ও বিপর্যস্ত অধ্যায় অতিক্রম করছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং ভারতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দলটির টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই পতনের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত দলটির গোটা চেইন অব কমান্ড তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করলেও রাজনৈতিক সেই বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচিত নতুন সরকারও জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ফলে আইনগতভাবেই দেশের মাটিতে দলটির প্রকাশ্য রাজনীতির সব পথ এখন রুদ্ধ।
এককালের প্রতাপশালী ও বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে চরম অবক্ষয় ও দিকভ্রান্তির একটি চিত্র ফুটে ওঠে। দলের শীর্ষ নেতাদের কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে দেশের ভেতরে জেলা, উপজেলা কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা যখন মামলা, গ্রেপ্তার ও অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, তখন বিদেশে অবস্থানরত অনেক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জীবনযাপন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।
মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের ভার্চুয়াল বৈঠক, অডিও বার্তা কিংবা ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সেখানে কখনো হঠাৎ দেশে ফিরে আসার, কখনো দেশ অচল করে দেওয়ার মতো হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাজপথে দাঁড়িয়ে সেই ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের মতো ন্যূনতম সাংগঠনিক শক্তি কিংবা রাজনৈতিক সক্ষমতা দলটির আর অবশিষ্ট নেই।
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যে দু-একটি ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যায়, তার নেপথ্যের বাস্তবতাও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা রয়েছে যে, দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার সময় গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের কিছু অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের কাছ থেকেও কিছু আর্থিক সহায়তা আসে। সেই অর্থের জোরেই মাঝেমধ্যে কিছু সুযোগসন্ধানী কর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন। রাজনৈতিক মহলে অনেকে রূপক অর্থে এসব কর্মসূচিকে 'টাকা হালাল করার মিছিল' বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।
এই ঝটিকা মিছিলগুলোর কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবির সঙ্গে বাস্তব সংযোগ খুব একটা দেখা যায় না। বরং এগুলোকে সংগঠনের অস্তিত্বের জানান দেওয়া এবং দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনের প্রতীকী প্রচেষ্টা হিসেবেই বেশি মনে হয়। এর বাইরে দলটিকে সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণমুখী ধারায় পুনর্গঠন কিংবা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়ে না।
টানা পনেরো বছরেরও বেশি সময় একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে দল ও সরকার কার্যত একাকার হয়ে গিয়েছিল। নেতৃত্বের একটি বড় অংশ যেন ভুলেই গিয়েছিল, বিলাসবহুল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কার্যালয় কিংবা আমলাতান্ত্রিক চাটুকারিতায় কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকে না; একটি দল টিকে থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অনেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রবিমুখ করে তোলে।
দলের ভেতরে সৎ, ত্যাগী ও নীতিবান কর্মীদের ক্রমশ কোণঠাসা করে জায়গা দেওয়া হয়েছিল ক্ষমতাকেন্দ্রিক, চাটুকার এবং অর্থনির্ভর গোষ্ঠীকে। এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগ করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করলেও দলটির আদর্শিক ভিত্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। তৃণমূলের অনেক কর্মীই ক্ষোভের সঙ্গে স্বীকার করেন, দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা যে ধরনের অবহেলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, অতীতে বিরোধী দলে থাকার সময়ও তেমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি।
আওয়ামী লীগের এই গভীর রাজনৈতিক সংকটের আরেকটি বড় কারণ তাদের আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনার ঘাটতি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতার ওপর পরিচালিত সহিংসতা, প্রাণহানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনার বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে নানা প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু পুরো বিষয়টি নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট অনুশোচনা, আত্মসমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক দায় স্বীকারের কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।
দলের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা একটি পরিশুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ গড়ে তোলার বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এখনো দলটির চেইন অব কমান্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী। ফলে নতুন, পরিচ্ছন্ন এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত কোনো রাজনৈতিক শক্তির পুনরুত্থান একেবারে অসম্ভব নয়। লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় ২০১৯ সালে ইভো মোরালেসের পতনের পর মাত্র এক বছরের মাথায় তাঁর রাজনৈতিক দল আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। ফিলিপাইনে ১৯৮৬ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের ছেলে, ফার্দিনান্দ ‘বংবং’ মার্কোস জুনিয়র, প্রায় ৩৬ বছর পর দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আবার তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর স্বৈরশাসক জিন এল আবিদিন বেন আলীর রাজনৈতিক বলয়ের লোকজন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফিরে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পরবর্তী সরকারের ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের খোলনলচে বদলে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হওয়ার সক্ষমতা।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের স্বপ্ন তাই নিছক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নাকি বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
প্রথমত, দলটির বর্তমান নেতৃত্ব এখনো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে আত্মসমালোচনার পরিবর্তে প্রতিশোধমূলক বক্তব্য এবং কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের ভাষাই বেশি ব্যবহার করছে। এই মনোভাব শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, পরিবর্তিত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ দেড় দশকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যে রাজনৈতিক প্রভাববলয় গড়ে উঠেছিল, নতুন সরকারের সময় ব্যাপক রদবদল, বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং মাঠ প্রশাসনের পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই নেটওয়ার্ক আগের অবস্থায় নেই। মাঝেমধ্যে কিছু তথ্য ফাঁস বা বিচ্ছিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনার অভিযোগ সামনে এলেও, তা দিয়ে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব বলে মনে হয় না।
তৃতীয়ত, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও আওয়ামী লীগের অনুকূলে নয়। বিএনপি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ বন্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গড়া এনসিপিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক ছাড়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
সবচেয়ে বড় সত্য হলো, কোনো রাজনৈতিক দলকে কেবল আইন করে বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় রাখা যায় না, যদি সেই দলটির প্রতি জনগণের শক্তিশালী ও স্থায়ী সমর্থন থাকে। ইতিহাস বারবার সেটিই প্রমাণ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। দলটি আজ শুধু আইনগতভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখে নয়, বরং জনআস্থার ক্ষেত্রেও গভীর সংকটে রয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে ব্যাংক খাতের ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ পাচারের অভিযোগ, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির বিতর্ক এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির পর দলটির জনগ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন।
রাজনীতির মূলধারায় ফিরতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক পরিপক্বতা, জনগণের কাছে অতীতের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা এবং আমূল সাংগঠনিক সংস্কার। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে এখনো তার সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নেতৃত্বের এই অনমনীয় অবস্থান, আত্মসমালোচনার অভাব এবং প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক ভাষা দলটিকে দিন দিন আরও বেশি জনবিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, একটি রাজনৈতিক দলের পুনর্জন্ম কখনো কেবল স্লোগান, আবেগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর প্রচারণার মাধ্যমে ঘটে না। তার জন্য প্রয়োজন জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আন্তরিকতা। আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই তিনটি ক্ষেত্রেই দলটি এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য বার্তা দিতে পারেনি।
এটি বলাই বাহুল্য, অতীতের ভুলের কোনো অনুশোচনা না করে, বিতর্কিত নেতৃত্বকে বহাল রেখে এবং কেবল বিদেশি শক্তির সম্ভাব্য সমর্থন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের যে প্রত্যাশা, তা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দলটির সামনে যদি কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থেকেও থাকে, তবে সেটি নির্ভর করবে আত্মসমালোচনা, সাংগঠনিক শুদ্ধিকরণ এবং নতুন, গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের উত্থানের ওপর।
অতীতের রাজনৈতিক ঐতিহ্য কিংবা মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার স্মৃতি কোনো দলের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পদ। কিন্তু ইতিহাসের গৌরব ভবিষ্যতের রাজনীতির নিশ্চয়তা নয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই শেষ পর্যন্ত জনগণের বর্তমান আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জবাবদিহির ভিত্তিতেই নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সুতরাং প্রশ্নটি আজ আর শুধু এই নয় যে, আওয়ামী লীগ ফিরতে চায় কি না। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগ কি সত্যিই বদলাতে চায়? কারণ আত্মসমালোচনা ছাড়া অনুশোচনা আসে না, অনুশোচনা ছাড়া সংস্কার আসে না, আর সংস্কার ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া যায় না। সেই মৌলিক সত্যটি যতদিন পর্যন্ত দলটির নেতৃত্ব উপলব্ধি করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়াতে পারবে না। আর সেই অর্থে, আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ আজ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়; বরং তাদের নিজেদের অতীত, নিজেদের নেতৃত্ব এবং নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই।









