গণমাধ্যম-সোশাল মিডিয়া: আ'লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি?

দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকা বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু একই সময়ে সাইবার আইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তাহলে কি শুধু সরকার বদলেছে, নাকি বদলেছে শাসনের ধরনও? গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে।
দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা দলটির প্রধানের কথায় যেমন ছিল আশ্বাসের বাণী, তেমনি ছিল প্রচ্ছন্ন এক শঙ্কার মেঘ। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশে এখন আর গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার মতো কোনো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি নেই। তোষামোদি বা চাটুকারিতা বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের সত্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুনতে কথাগুলো বেশ ভালো এবং গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা।
কিন্তু একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন তিনি যোগ করলেন, গণমাধ্যমের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তখনই পুরোনো এক চেনা ইতিহাসের ছায়া এসে পড়ে উপস্থিত অনেকের চোখেমুখে।
প্রধানমন্ত্রীর মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর জায়গা থেকে যখন এ ধরনের মন্তব্য আসে, তখন তা পুঁজি করে মাঠপর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সরকারের মন্ত্রীরা কীভাবে সেটিকে প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তার অসংখ্য নজির এ দেশের মানুষ দেখেছে।
কিছুকাল আগেও দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর বা ছবি শেয়ার করার কারণে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, গভীর রাতে তাদের তুলে নিয়ে হয়রানি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কারাগারেও যেতে হয়েছে।
ফলে মুখের আশ্বাস আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিএনপি সরকারও কি তবে নিঃশব্দে আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সেই চেনা পথেই হাঁটতে শুরু করেছে? ক্ষমতার পালাবদল হলেও শাসনের মানসিকতা কি একই থেকে যাচ্ছে?
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই সরকারের আমলেও সাইবার আইনকে আরও কঠোর করার উদ্যোগ। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেটা বা ফেসবুকের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা যায়, সে ধরনের আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা চলছে, তার সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। অথচ একই ধরনের ভাষা আমরা বিগত দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও শুনেছি। আইনি ভাষার আড়ালে ভিন্নমত দমনের এই কৌশল এ দেশের মানুষের কাছে নতুন নয়।
আইনের নাম বারবার বদলায়, কিন্তু তার ভেতরের ক্ষত একই থেকে যায়। কখনো সেটি ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, কখনো সাইবার নিরাপত্তা আইন, আর এখন তা হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন। আইনের নাম পরিবর্তনের এই ধারাকে অনেকেই উপহাস করে বলেন, ‘যেই লাউ, সেই কদু’।
পুরোনো আইনের বিতর্কিত ও সমালোচিত ধারাগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত না করে কেবল ধারা নম্বর পরিবর্তন করে নতুন মোড়কে সেগুলোকে আবার আইনে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ রয়েছে।
যেমন, আগের আইনের ২৫ ও ২৯ ধারার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৩, ২৫ ও ২৬ ধারায় এমনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সমালোচকদের মতে, চাইলে যেকোনো সমালোচনামূলক বক্তব্যকে ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত সহিংসতা কিংবা মানহানির তকমা দিয়ে মামলা করা সম্ভব।
এই বিশেষ আইনগুলোতে অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব থাকায়, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী থেকে শুরু করে সাংবাদিক নেতারাও।
বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, আইন সংশোধনের আড়ালে মূলত ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনার পথ সংকুচিত করার একটি প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান সরকারের আমলেও কোনো ধরনের প্রকাশ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই একের পর এক গণমাধ্যমকর্মীর চাকরি চলে যাওয়ার খবর এসেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতিতে রাতারাতি পরিবর্তন আনা হচ্ছে, দায়িত্বে পরিবর্তন ঘটছে। কোথাও কোথাও আবার পুরোনো ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের সুকৌশলে ফিরিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট প্রচারের কারণে ‘বিএনপিনামা’র মতো সাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি কোনো কোনো স্বাধীন মতপ্রকাশকারীকে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

গণমাধ্যমকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপায়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার এই চিরচেনা প্রবণতা ক্ষমতাসীনদের জন্য সাময়িক স্বস্তি আনতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো, এর শেষ পরিণতি কোনো শাসকের জন্যই শুভ হয়নি।
বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, আইন পরিবর্তনের আগেই গ্রেপ্তার ও ভয়ের সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট বা ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করার ঘটনায় একের পর এক গ্রেপ্তারের খবর নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে আঁকা একটি ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন শেয়ার করেছিলেন হাসান নাসিম নামের এক কনটেন্ট নির্মাতা। এরপর চিফ হুইপের একজন কর্মী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন এবং ডিবি পুলিশ নাসিমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দলীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এ গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে একে ভিন্নমত দমনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে চাপের মুখে চিফ হুইপ নিজেই তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পর নাসিম জামিন পান। তবে এর মধ্যেই সমাজে যে ভয়ের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
অনুরূপভাবে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আজিজুল হক নামের এক স্থানীয় ব্যক্তিকে গভীর রাতে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ কারাগারে পাঠায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় এক দলীয় কর্মী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। অথচ গ্রেপ্তার হওয়া আজিজুল হক ঠিকমতো ফেসবুকও ব্যবহার করতে জানেন না এবং অন্য কেউ তার ফোন ব্যবহার করে ওই পোস্টটি দিয়েছে—এমন দাবিও উঠে আসে। কিন্তু তদন্তের আগেই পুলিশ যে তৎপরতা দেখিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ভোলায় এক নারীকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে একটি পুরোনো ঘটনার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখার ঘটনাগুলোও আলোচনায় এসেছে।
সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে পুলিশ ও প্রশাসনের আচরণে ক্ষমতার কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে যে কলমের শক্তির জয়গান গাওয়া হয়েছিল, সেই কলম ও কার্টুনের শক্তিকে আবারও ক্ষমতার কঠোর প্রয়োগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের অতিউৎসাহী গ্রেপ্তার ও দমনমূলক আচরণ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
বিগত সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বাংলাদেশে নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে কাউকে মধ্যরাতে হয়রানির শিকার হতে হবে না কিংবা কারাগারে যেতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অতীতে একাধিকবার বলেছেন, তাকে নিয়ে আঁকা ব্যঙ্গচিত্র বা তৈরি করা মিম তিনি উপভোগ করেন এবং মুক্ত মতপ্রকাশের পক্ষে তিনি অবস্থান রাখেন।
কিন্তু তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কতটা মিল রয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব অবশ্য দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রের কোনো সাধারণ নাগরিকের ছবি বিকৃত করা কিংবা অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানো কখনো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন নিজস্ব গতিতে আইন প্রয়োগ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আইন প্রয়োগের গতি কেন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থকদের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে এত দ্রুত হয়, আর সাধারণ মানুষের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কেন তা ধীর হয়ে পড়ে?
আসলে ক্ষমতা এমন এক বাস্তবতা, যা অনেক সময় মানুষকে ক্ষমতার বাইরে থাকার দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ভুলিয়ে দেয়। বিএনপি দীর্ঘ সতেরো বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে যে নিপীড়ন ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়েছিল, আজ ক্ষমতায় এসে তারা যেন সেই একই ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি করছে—এমন অভিযোগ উঠছে।
মুখে প্রতিহিংসা পরিহার ও রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও, ভিন্নমত ও সমালোচনা সহ্য না করার প্রবণতা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন অনেকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে বারবার রাজনৈতিক গৌরব হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বর্তমান বিএনপির কিছু পদক্ষেপ সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গণমাধ্যমকে নিজেদের আয়না হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে তাকে তোষামোদির কাঠামোর মধ্যে বন্দী করার কোনো প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
ইতিহাস সাক্ষী, যে সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করেছে এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের আশ্রয় নিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য সেই পথ কল্যাণকর হয়নি।
সাইবার জগত নিয়ন্ত্রণের নামে, গুজব প্রতিরোধের আড়ালে যদি মূলত সমালোচনা ও ভিন্নমত দমনের পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের মনে যে আশার আলো তৈরি হয়েছিল, তা যদি একের পর এক কঠোর আইন ও অযৌক্তিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ম্লান হয়ে যায়, তবে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বিএনপি সরকারের উচিত মুখের আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মিল রাখা, অতিউৎসাহী পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের মতো আইনগুলোকে এমনভাবে সংস্কার করা, যাতে নাগরিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
অন্যথায় ইতিহাসের পাতায় আগের শাসকদের মতোই এই সরকারের কর্মকাণ্ডও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে।









