যা ছিলো ‘অগণতান্ত্রিক’, ক্ষমতায় বসে তা এখন অম্ল-মধুর!
বিরোধী আসনে উন্নয়ন তদারকিতে নারী এমপিরা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু দৃশ্য বারবার ফিরে আসে। চরিত্র বদলায়, পতাকা বদলায়, স্লোগান বদলায়, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের ভেতরের যুক্তি খুব একটা বদলায় না। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যে সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়, ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেটিকেই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।যে নীতিকে একসময় রাজনৈতিক আগ্রাসন বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেটিই হয়ে উঠে প্রশাসনিক প্রয়োজন। ফলে আমাদের রাজনীতিতে নীতির ধারাবাহিকতার চেয়ে অবস্থানের ধারাবাহিকতাহীনতাই অনেক বেশি দৃশ্যমান।
সম্প্রতি সরকারি দলের ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেতা ৭৮টি আসনের উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, কিন্তু এর রাজনৈতিক অভিঘাত উপেক্ষা করা কঠিন। কারণ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সরাসরি মিল রয়েছে।
প্রায় সতেরো বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারও একই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তখন বিএনপি এবং তার মিত্ররা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছিল। তারা বলেছিল, এটি জনগণের ভোটের রায়ের প্রতি অসম্মান। নির্বাচিত প্রতিনিধির এলাকায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার একটি কৌশল।
সংরক্ষিত নারী আসনের ধারণা: প্রতিনিধিত্ব না বিকল্প ক্ষমতা?
বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ঘাটতি পূরণের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম ছিল। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী সংসদে আসতে পারছিলেন না। সেই বাস্তবতা থেকে সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে তাঁদের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। তাঁরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে তাঁদের দায়িত্বও মূলত জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা।
কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের চরিত্র ধীরে ধীরে বদলেছে। তাঁদের অনেক সময় নির্দিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে এমন একটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, যা মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্র বলে বিবেচিত।
এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়। সংরক্ষিত নারী আসন কি নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা, নাকি এটি ধীরে ধীরে একটি সমান্তরাল রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে?
কারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি যদি আরেকজন সংসদ সদস্য একই এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি জটিল হয়ে ওঠে।
২০০৯ সালের সিদ্ধান্ত: তখনকার বিতর্ক
বর্তমান বিতর্কের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৯ সালে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। বিএনপি এবং তার মিত্ররা সংসদে তুলনামূলকভাবে ছোট বিরোধী শক্তি হিসেবে উপস্থিত ছিল।
সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকার সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন সদস্যকে বিরোধী দলের জেতা বিভিন্ন আসনের উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেয়। বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি, বিজেপি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের জেতা আসনগুলো তাঁদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কেউ একটি, কেউ দুটি, আবার কেউ চারটি পর্যন্ত আসনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতারা বলেছিলেন, জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তার এলাকায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া জনগণের রায়কে খাটো করার শামিল। তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল করার চেষ্টা।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিএনপি নেতারাও একে রাজনৈতিক আগ্রাসন, অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তখন তাঁদের বক্তব্য ছিলো, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে তাঁর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে অন্য কাউকে যুক্ত করা গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আজ সেই বক্তব্যগুলো আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে। কারণ পরিস্থিতি বদলেছে, কিন্তু সিদ্ধান্তের ধরন প্রায় একই রয়ে গেছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি রাজনৈতিক স্মৃতিভ্রংশ?
রাজনীতিতে অবস্থান পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। বাস্তবতা বদলায়, চ্যালেঞ্জ বদলায়, অগ্রাধিকার বদলায়। কিন্তু যখন কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে ঠিক সেই কাজটিই করে, যেটিকে একসময় তীব্রভাবে সমালোচনা করেছিল, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—তাহলে আপত্তিটা কি সত্যিই নীতিগত ছিল?
যদি ২০০৯ সালে এই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী হয়ে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালেও সেটি একইভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কথা। আর যদি আজ এটি যুক্তিসঙ্গত, প্রয়োজনীয় এবং গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে অতীতে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়েছিল কেন?
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের নীতিগত অবস্থানের ধারাবাহিকতার ওপর। জনগণ আশা করে, একটি দল ক্ষমতায় থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক, মৌলিক নীতির প্রশ্নে একই অবস্থান বজায় রাখবে।
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায়, একই বিষয় সরকারে থাকলে একভাবে দেখা হয়, আর বিরোধী দলে থাকলে অন্যভাবে। ফলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উন্নয়ন কি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব, নাকি স্থানীয় সরকারের?
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে উন্নয়নকে আমরা কীভাবে দেখি। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনো মনে করে, একজন সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ হচ্ছে রাস্তা বানানো, সেতু নির্মাণ করা, স্কুল প্রতিষ্ঠা করা কিংবা হাসপাতাল নির্মাণ করা।
কিন্তু বাস্তবে সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক দায়িত্ব তা নয়। তাঁদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন করা, জাতীয় নীতি নির্ধারণে অংশ নেওয়া, বাজেট পর্যালোচনা করা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা।
কিন্তু গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে একটি এমপিকেন্দ্রিক উন্নয়ন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে এবং উন্নয়নের কৃতিত্ব রাজনৈতিক নেতাদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
একটি রাস্তা নির্মাণ হলে বলা হয়, এমপি করেছেন। একটি স্কুল হলে বলা হয়, এমপি দিয়েছেন। একটি সেতু হলে বলা হয়, এমপির অবদান। ফলে উন্নয়ন শুধু উন্নয়ন থাকে না; এটি রাজনৈতিক প্রভাবের একটি হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতায় উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব কে পাবে, সেটি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। কারণ উন্নয়নের সঙ্গে জনপ্রিয়তা জড়িত, জনপ্রিয়তার সঙ্গে ভোট জড়িত, আর ভোটের সঙ্গে ক্ষমতা জড়িত।
একই আসনে একাধিক ক্ষমতাকেন্দ্রের ঝুঁকি
বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে আরেকটি বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। ধরা যাক, একটি আসনে জামায়াত, এনসিপি বা ইসলামী আন্দোলনের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। এখন সেখানে আবার একজন সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী এমপিকে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হলো।
এর পাশাপাশি নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থীও এলাকায় সক্রিয় আছেন। ফলে একই এলাকায় একাধিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের কেন্দ্র তৈরি হতে পারে।
উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রশাসন কার সঙ্গে সমন্বয় করবে? জনগণ কার কাছে যাবে? কোনো প্রকল্পের কৃতিত্ব কে নেবে? কোনো সমস্যা হলে জবাবদিহি করবেন কে? _এ ধরনের প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে এটি অপ্রয়োজনীয় সংঘাতেরও জন্ম দিতে পারে।
বর্তমান সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রয়োগের সামঞ্জস্য। বর্তমান সংসদে সাতজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেবল রুমিন ফারহানার আসনের জন্য একজন নারী এমপিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ছয়জন স্বতন্ত্র সদস্যের ক্ষেত্রে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। আবার বিরোধী জোটেরও ১৩ জন সংরক্ষিত নারী এমপি রয়েছেন।
যদি নারী এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হয়, তাহলে তাঁদেরও কি সরকারি দলের জেতা আসনগুলোতে একই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হবে? যদি না দেওয়া হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ তখন এটি একটি সার্বজনীন নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যবস্থা বলেই মনে হবে।
নীতির রাজনীতি, নাকি অবস্থানের রাজনীতি?
পুরোনো সংবাদপত্রের কাটিংয়ের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। মানুষ ভুলে যায়, নেতা ভুলে যান, দল ভুলে যায়; কিন্তু হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজ ভুলে না। ২০০৯ সালের সেই কাটিংগুলো আজ আবার সামনে এসেছে এবং বিব্রতকর কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। তখন বলা হয়েছিল, এটি গণরায়ের অবমাননা।
তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তখন বলা হয়েছিল, বিরোধী দলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। আজ প্রায় একই প্রশ্ন নতুন প্রেক্ষাপটে ফিরে এসেছে। এ কারণে এই বিতর্ক কেবল নারী এমপিদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রশ্ন নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আয়না।
এই আয়নায় আমরা এমন একটি বাস্তবতা দেখি, যেখানে ক্ষমতা বদলায়, পতাকা বদলায়, বক্তা বদলায়; কিন্তু রাজনৈতিক আচরণ খুব বেশি বদলায় না। বিরোধী দলে থাকলে যে সিদ্ধান্তকে অন্যায় বলা হয়, ক্ষমতার কাছাকাছি গেলেই সেটি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
আমরা কি সত্যিই নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি করি, নাকি অবস্থানের ভিত্তিতে? আমরা কি কোনো সিদ্ধান্তকে ভালো বা খারাপ বলি তার অন্তর্নিহিত নীতিগত গুণাগুণের ভিত্তিতে, নাকি সেই সিদ্ধান্তে আমরা লাভবান হচ্ছি কি না, তার ভিত্তিতে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি শুধু নির্বাচন নয়; গণতন্ত্রের শক্তি হলো নীতির ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক সততা এবং অবস্থান বদলালেও একই মানদণ্ডে নিজেকে বিচার করার সক্ষমতা।
২০০৯ সালের আপত্তি আর আজকের বাস্তবতাকে পাশাপাশি রাখলে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো—বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এখনো অসম্পূর্ণ। আর সেই কারণেই একই বিতর্ক, একই অভিযোগ এবং একই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।









