জমিদারি উচ্ছেদ ও ঐতিহ্যের নতুন ব্যঞ্জনা
জগদ্দল পাথর অপসারণের দিন

ঢাকার ঐতিহাসিক বটতলায় সেদিন সকাল থেকেই ছিল এক অন্যরকম আবহ। ফাগুনের চড়া রোদ নয়, জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা নিয়ে আসা বাতাসে মিশে ছিল দীর্ঘশ্বাসমুক্ত এক স্বস্তির ঘ্রাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছেন সেখানে। চত্বরের এক কোণে সযত্নে আঁকা হচ্ছে লাল রঙের হাতের ছাপ। এই ছাপ কোনো ধ্বংসের নয়; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শোষিত মানুষের বুকের ভেতরে জমাট বাঁধা রক্তক্ষরণের এক প্রতীকী স্মারক।
হঠাৎ একদল তরুণ এগিয়ে গেলেন এক পাশে রাখা একটি প্রতিকৃতির দিকে। সেটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রথম দিককার কুখ্যাত চরিত্র লর্ড কর্নওয়ালিসের। একের পর এক পাথর গিয়ে আছড়ে পড়তে লাগল সেই প্রতিকৃতির ওপর। বাতাসে ধ্বনিত হলো স্লোগান— “সম্পদ লুটেরাদের বিচার চাই, ক্ষতিপূরণ চাই।”
এই দৃশ্য কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়; এটি আসলে পূর্ববঙ্গের সাড়ে চার কোটি মানুষের বুক থেকে একসময় নেমে যাওয়া এক জগদ্দল পাথরের ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করার আকুতি। ১৯৫১ সালের ১৬ মে এ দেশে জমিদারি প্রথার যে আনুষ্ঠানিক মরণঘণ্টা বেজেছিল, তারই ৭৬তম বার্ষিকীতে তরুণদের এই ‘মুক্তি উৎসব’ ঢাকার বুকে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যঞ্জনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে যদি একটু পেছনে তাকানো যায়, দেখা যাবে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দুঃখের অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল ১৭৯৩ সালে। লর্ড কর্নওয়ালিস এ দেশে প্রবর্তন করলেন ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’। এক রাতের ব্যবধানে যে কৃষক নিজের লাঙল দিয়ে মাটির বুক চিরে ফসল ফলাত, সে হয়ে গেল পরবাসী; নিজের জমিতেই সে পরিণত হলো ভূমিদাসে। অথচ মুঘল আমলে, কিংবা তারও আগে, এ দেশের ভূমি ব্যবস্থা ছিল একেবারেই ভিন্ন।
বদরুদ্দীন উমর তাঁর লেখায় দেখিয়েছেন, মুঘল আমলে জমির মালিকানা কোনো জমিদারের ছিল না; মালিক ছিল স্বয়ং চাষি। তথাকথিত জমিদাররা ছিলেন কেবল সরকারের রাজস্ব আদায়ের প্রতিনিধি বা এজেন্ট। ফসল হলে কর দেওয়া হতো, খরা বা দুর্ভিক্ষে কর মওকুফ করা হতো। শাসনব্যবস্থায় ছিল এক ধরনের মানবিক ভারসাম্য। কিন্তু ব্রিটিশরা এসে বাংলার চিরন্তন সামাজিক কাঠামোকে এক ঝটকায় ভেঙে দিল। তারা এমন এক কৃত্রিম ভূস্বামী বা জমিদার শ্রেণি তৈরি করল, যাদের একমাত্র কাজ ছিল প্রজাদের রক্ত চুষে কোম্পানির কোষাগার পূর্ণ করা।
এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় আঘাতটি নেমে এসেছিল বাংলার মুসলমান সমাজের ওপর। পলাশীর যুদ্ধের আগে এ দেশে মুসলমানরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। বহু বড় জমিদারও ছিলেন মুসলমান। কিন্তু ব্রিটিশদের আরোপিত চড়া ও নির্মম রাজস্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে একের পর এক মুসলিম জমিদারের জমিদারি নিলামে উঠতে শুরু করে। কলকাতাকেন্দ্রিক ধনী মহাজন ও ব্যবসায়ী শ্রেণি, যারা ব্রিটিশদের আনুগত্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিল, তারা এসে অল্প দামে এসব জমিদারি কিনে নেয়।
ডাব্লিউ ডাব্লিউ হান্টার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Indian Musalmans-এ লিখেছেন, পলাশীর আগে বাংলায় দরিদ্র মুসলমান পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল; কিন্তু একশো বছর পর সচ্ছল মুসলিম পরিবারই বিরল হয়ে দাঁড়ায়। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকও দেখিয়েছেন, ১৮১৪ সালে ঢাকার চৌকিদারি ট্যাক্স যেখানে ছিল ৩০ হাজার টাকা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফলে ১৮৩৬ সালের মধ্যে তা মাত্র ৮ হাজার টাকায় নেমে আসে। এভাবেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সম্ভ্রান্ত সমাজ ও সাধারণ কৃষককুলকে ধীরে ধীরে এক গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
জমিদারদের এই শোষণ ও নিষ্ঠুরতার বিবরণ শুনলে আজও আধুনিক মানুষের গা শিউরে ওঠে। আমেরিকার ক্রীতদাসপ্রথার মালিকদের চেয়েও বাংলার বহু জমিদারের অত্যাচার কোনো অংশে কম ছিল না। প্রজাদের ওপর কত রকমের অন্যায্য কর চাপানো হতো, তার কোনো সীমা ছিল না। মেঠোপথ দিয়ে কৃষকের গরুর গাড়ি চললে ধুলো উড়ত— সেজন্য দিতে হতো ‘ধুলট’ কর। নদীতে বা ঘাটে নৌকা বাঁধলে দিতে হতো ‘খোটাগাড়ৌ’ কর। নিজের জমিতে গাছ লাগালে ‘চৌথ’, আখের গুড় তৈরি করলে ‘ইক্ষুগাছ কর’ দিতে হতো।
শুধু তাই নয়, নিজের ঘরে নতুন চালা তুললেও জমিদারকে দিতে হতো ‘সেলামি’। বকেয়া খাজনার হিসাব মেলাতে গেলে খাতার নাম করে আদায় করা হতো ‘টহুরী’ কর। জমিদারের বাড়িতে কোনো নতুন অতিথি এলে তার আপ্যায়নের খরচও বহন করতে হতো প্রজাদের। জমিদারের ঘরের কারো বিয়ে, পূজা-পার্বণ, তীর্থযাত্রা, এমনকি কোনো জমিদার অপরাধ করে জেলে গেলে তাকে ছাড়িয়ে আনার টাকাও গরিব কৃষকদের কাঁধেই চাপানো হতো।
সবচেয়ে জঘন্য অত্যাচার করা হতো মুসলমান প্রজাদের ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর। কোনো মুসলমান প্রজা দাড়ি রাখলে দিতে হতো ‘দাড়ি কর’। গোঁফ ছাঁটলেও ছিল কর। নিজের সন্তানের মুসলিম নাম রাখার জন্যও নির্ধারিত ছিল কর। এমনকি গ্রামে নতুন মসজিদ বা মাদরাসা নির্মাণ করতেও জমিদারকে মোটা অঙ্কের অর্থ না দিয়ে উপায় ছিল না। কোরবানির জন্য নিজের ঘরে গরু জবাই করাও অনেক স্থানে ছিল নিষিদ্ধ।
এর সঙ্গে ছিল সামাজিক অপমানের অন্তহীন অধ্যায়। জমিদারের কাচারি বা বাড়ির সামনে দিয়ে কোনো সাধারণ প্রজা জুতো পায়ে বা মাথায় ছাতা তুলে হেঁটে যেতে পারত না। জমিদারের পেয়াদারা গ্রামে এলে প্রজাদের গাছের ফল, পুকুরের মাছ, গোয়ালের হাঁস-মুরগি জোর করে নিয়ে যেত। খাজনা দিতে না পারলে চলত অমানবিক নির্যাতন। চামড়ার জুতা দিয়ে প্রহার, বুকে বাঁশ চেপে ধরা, রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা, শীতে ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা কিংবা ঘরে আটকে মরিচের ধোঁয়া দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সুন্দরী প্রজা নারীরাও প্রায়ই জমিদারদের লালসার শিকার হতেন।
তবে বাংলার মানুষ এই সীমাহীন অন্ধকারের সামনে কখনোই সম্পূর্ণ নতজানু হয়ে বসে থাকেনি। তাদের বুকের ভেতরের প্রতিরোধের আগুন বারবার বিদ্রোহের রূপে বিস্ফোরিত হয়েছে। মীর নিসার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়ার মতো নেতারা মূলত এই অত্যাচারী জমিদার ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কিংবা ফরায়েজি আন্দোলনের দিনগুলো ছিল বাংলার মুসলমানদের আত্মপরিচয় ও অধিকার আদায়ের প্রথম শক্তিশালী প্রতিরোধ।
পরবর্তীকালে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৮৭২ থেকে ১৮৭৫ সালের তুষখালি কৃষক আন্দোলন, ১৮৭৩ সালের পাবনা কৃষক বিদ্রোহ, ১৮৮০ সালের ছাগলনাইয়া ও মুন্সীগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহ— এসব আন্দোলন জমিদারি ব্যবস্থার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন কলকাতাকেন্দ্রিক বাবু ও বর্ণবাদী ব্রাহ্মণ জমিদাররা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করছিলেন, তখন পূর্ববঙ্গের সাধারণ মুসলমান ও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা বুঝতে পেরেছিলেন— তাঁদের মুক্তি কলকাতার বাবুদের হাত ধরে আসবে না। কারণ পূর্ববঙ্গের মানুষের রক্ত-ঘামে অর্জিত সম্পদে কলকাতায় বিলাসের প্রাসাদ গড়ে উঠত, অথচ পূর্ববঙ্গের মানুষ পেত কেবল বঞ্চনা ও অপমান।
তাই ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি যখন স্লোগান তুলল— “লাঙল যার, জমি তার; ঘাম যার, দাম তার”, তখন বাংলার কৃষকসমাজ নতুন এক স্বপ্নের পেছনে ছুটল।
১৯৪০ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডের নেতৃত্বে গঠিত ভূমি সংস্কার কমিশনও জমিদারি প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ যখন জমিদারি উচ্ছেদের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন পূর্ববাংলার মুসলমানরা এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটায়। মুসলিম আসনের ১১৯টির মধ্যে ১১৩টিতেই তারা জয়ী হয়। পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল বাংলার শোষিত কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহও এদের দুর্দশা দেখে বলেছিলেন— “এদের অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে।”
অবশেষে এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৫০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদে ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল’ পাস হয়। পরদিন ঢাকার বিখ্যাত দৈনিক আজাদ শিরোনাম করেছিল— “পূর্ববঙ্গের সাড়ে ৪ কোটী অধিবাসীর বুকের উপর হইতে জমিদারী প্রথার জগদ্দল পাথর অপসারিত।” এরপর ১৯৫১ সালের ১৬ মে গভর্নর খাজা নাজিমুদ্দীনের অনুমোদনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়।
এই আইনের মাধ্যমে বাংলার মানুষ দীর্ঘ ১৫৭ বছরের দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়। জমির ওপর মধ্যবর্তী সমস্ত শোষক শ্রেণির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় এবং কৃষক সরাসরি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিজের জমির মালিকানার অধিকার ফিরে পায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সাম্যবাদের বুলি আওড়ানো তৎকালীন অনেক রাজনৈতিক দল যেখানে কেবল ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষকের নামে দেওয়ার দাবিতে তেভাগা আন্দোলন করছিল, সেখানে মুসলিম নেতৃত্ব পুরো জমির মালিকানাই কৃষকের হাতে তুলে দেওয়ার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আজ বহু বছর পর, বিশেষ করে জুলাই-বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে, তরুণ সমাজের মাধ্যমে এই বিস্মৃতপ্রায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন ব্যঞ্জনা নিয়ে ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসবিদ এই অঞ্চলের মুসলিম ঐতিহ্য ও সংগ্রামের অনেক অধ্যায় আড়াল করে রেখেছিলেন। তাঁরা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সেইসব বীরদের, যারা রক্ত দিয়ে এই মাটিকে শোষণমুক্ত করেছিলেন।
কিন্তু ইতিহাসকে কখনো স্থায়ীভাবে চাপা দেওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার এই উৎসব প্রমাণ করে, বর্তমান প্রজন্ম তাদের সত্যিকারের শেকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন করে সচেতন হয়ে উঠছে। তারা বুঝতে পেরেছে, তাদের পূর্বপুরুষরা কেবল নিপীড়নের শিকারই ছিলেন না; তাঁরা প্রতিরোধও করেছিলেন বুক চিতিয়ে।
এই ঐতিহাসিক উদযাপন বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্যও একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ইতিহাস আমাদের শেখায়, কোনো শোষণ বা দমননীতি চিরস্থায়ী হয় না। জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির ৭৪ বছর পরও সমাজ থেকে রাজা-প্রজার মানসিকতা পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, নতুন মোড়কে জুলুমতন্ত্র ও দখলদারিত্ব এখনো সাধারণ মানুষকে পিষ্ট করতে চায়।
কিন্তু আজকের তরুণ সমাজ, যারা একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, তারা নিজেদের ঐতিহ্য ও শক্তি সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। শাসকগোষ্ঠী যদি মনে করে, পুরোনো ঔপনিবেশিক কায়দায় দমন-পীড়ন, ভয়ভীতি ও নিপীড়নের সংস্কৃতি কায়েম করে এই জাগ্রত জনতাকে স্তব্ধ করে রাখা যাবে, তবে তারা ভয়াবহ ভুল করবে।
এই গর্বিত ও সচেতন প্রজন্মকে লাঠি, গুলি কিংবা ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে আর দীর্ঘদিন শৃঙ্খলিত রাখা সম্ভব নয়। অতীতকে ভুলে গিয়ে যারা নতুন করে দমননীতির জাল বিস্তার করতে চাইবে, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সেই দমনকারীদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াবে। বাংলার মাটি বরাবরই শোষকদের পতনের সাক্ষী। এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্য।









