গুম, জুলাই সনদ ও সংসদীয় কমিটি নিয়ে সরব রাজনীতি
বিএনপির তৃণমূলে অস্বস্তি

রোববারের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে গুম, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পদ বণ্টন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘিরে সরকার, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ গুমের বিচার ও প্রতিরোধ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ হয়েছে। এর বাইরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা অভিযোগ, জামায়াতের লংমার্চের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতাও দিনের রাজনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারের বার্তায় গুমের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখানোর বিষয়টি সামনে ছিল। বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ গুমের স্বাধীন তদন্ত এবং সংসদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছে। একই সময়ে বিএনপির জন্য কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়েছে।
সরকার: গুমের বিচার, জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার বার্তা
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সরকারের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা এসেছে গুমের বিচার নিয়ে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি।
ফলে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বর্তমান সরকারের অবস্থান কঠোর—এমন বার্তাই সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনায় অতীতের গুমের ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
তবে গুম নিয়ে সরকারের এই অবস্থানের পাশাপাশি সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল সেখানে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরলে তা প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হবে। বক্তব্যের শেষ দিকে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আপনাদের মনে নিশ্চয়ই কোনো কষ্ট দিইনি।’
অর্থাৎ সরকারের দিনের রাজনৈতিক বার্তায় একদিকে গুমের ঘটনায় কঠোর বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান—দুটি বিষয়ই সামনে ছিল।
এর বাইরে সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা জোরদারের কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সমন্বিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। একই দিনে তিন জেলায় নতুন এসপিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও সরকার বার্তা দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশে বর্তমানে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। আর চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পথে মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ফলে সরকারের দিনের সামগ্রিক বার্তায় গুমের বিচার ও মানবাধিকার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসন-অর্থনীতি-খাদ্য নিরাপত্তায় সক্ষমতার বিষয়গুলো একসঙ্গে এসেছে।
বিএনপি: কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে মাঠের অস্বস্তি
বিএনপির জন্য রোববারের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমস্যা। রাজধানীর আদাবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি নেতা ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরও ছিল আলোচনায়। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের।
তবে বিএনপির জন্য মাঠপর্যায়ের চিত্র ছিল অনেক বেশি অস্বস্তিকর।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক অসহায় বিধবার ভাতার টাকা প্রায় ছয় বছর ধরে নিজের মোবাইল নম্বরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তফসিল ঘোষণা না হলেও প্রায় সব ইউনিয়নে দলের একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও তিন-চারজন পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী ঠিক করা এবং অন্যদের তাকে সমর্থনে রাজি করানো বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
ঈশ্বরদীতেও একই ধরনের সাংগঠনিক সংকট দেখা গেছে। উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কমিটি ঘোষণার পর দলের আরেক পক্ষ নতুন কমিটি ঘোষণা করায় অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
অর্থাৎ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপি যেখানে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে, সেখানে মাঠপর্যায়ে একাধিক প্রার্থী, পাল্টাপাল্টি কমিটি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলটির সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সামনে আনছে।
জামায়াত: গুমের বিচার, লংমার্চ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি
জামায়াতে ইসলামীর দিনের রাজনীতিতে গুমের বিচার ও স্বাধীন তদন্তের দাবির পাশাপাশি সরকারবিরোধী কর্মসূচি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি গুরুত্ব পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেছে। পরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, দায়ীদের বিচার এবং স্বাধীন তদন্তব্যবস্থার দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির ১৪ দফা দাবির মধ্যেও একই বিষয়গুলো ছিল। গত ১৫ বছরের গুমের ঘটনা পুনঃতদন্ত, ‘আয়নাঘর’সহ গোপন আটককেন্দ্রের তদন্ত, দায়ীদের বিচার, স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
গুমের আইন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিনুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনের কাঠামো এমন যে গুমের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করাই কঠিন হয়ে যাবে। তিনি একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চসহ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আরেকটি জায়গা হয়েছে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন। বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যার অনুপাতে ২৬ শতাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সভাপতি পদ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ এখনো বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্তে সভাপতি পদ দেওয়ার প্রস্তাবকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতীতে সংসদে স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা কিংবা জুতা ছোড়াছুড়ির মতো ‘কালো ইতিহাসে’ ফিরতে চান না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতের মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে আগামী দিনের আন্দোলনের প্রস্তুতিও স্পষ্ট। ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কোনো সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চারটি প্রধান রুটে লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে জনগণের দাবি মানতে বাধ্য করার কথা বলেছেন তিনি।
নির্বাচনকেও দলটি নিজেদের রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সামনে আনছে। ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, আগামী কোনো নির্বাচনে একটি ভোটও কারচুপি হতে দেওয়া হবে না এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা হবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হিসেবে দেলোয়ার হোসেনের নাম ঘোষণাও নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থাৎ জামায়াতের দিনের রাজনীতি ছিল একদিকে গুমের বিচার ও সংসদে ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি, অন্যদিকে রাজপথের কর্মসূচি এবং নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার প্রস্তুতি।
এনসিপি: গুমের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহি
জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে রোববার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গুমের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের সমালোচনা।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজের গুমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে রেখে তাঁর গুমের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
সারোয়ার তুষারের বক্তব্যে মূল প্রশ্নটি ছিল স্বাধীন তদন্ত নিয়ে। তাঁর দাবি, নিজের গুমের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার স্বাধীন কমিশন বা কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে গুমের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের পথ সংকুচিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
ফলে এনসিপির অবস্থানও গুমের ঘটনাকে শুধু অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে না দেখে বর্তমান সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
অন্যান্য রাজনীতি: আইনশৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন
রাজনীতির বাইরে রোববারের আলোচিত ঘটনাগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে এলোপাতাড়ি গুলিতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাজধানীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অচেনা নম্বর থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানায় জিডি করেছেন। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে লালমনিরহাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সস্ত্রীক তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন। পানি নিয়ন্ত্রণ, ব্যারাজের গেট পরিচালনা এবং বন্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের জামিন এবং ফতুল্লায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনাও দিনের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারসংক্রান্ত আলোচনায় ছিল।
ছাত্র রাজনীতি: গুমের স্মৃতি থেকে সংগঠনের বিতর্ক
রোববার ছাত্র রাজনীতিতেও গুম ও সংগঠনকেন্দ্রিক বিতর্ক গুরুত্ব পেয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নিখোঁজ শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের ২৪১ নেতাকর্মী রাষ্ট্রীয় গুমের শিকার হয়েছেন এবং সাতজন এখনো নিখোঁজ। সংগঠনটি গুমের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে দাবি করে নিখোঁজদের সন্ধান এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের জন্য রোববার ছিল সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দিন। বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক পদে একজন ছাত্রত্বহীন কলেজ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা হয়েছে।
ফলে ছাত্র রাজনীতিতেও একদিকে অতীতের গুম ও নিখোঁজের বিচার দাবি, অন্যদিকে বর্তমান সময়ের সংগঠন পরিচালনা ও নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুটি চিত্রই পাশাপাশি দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বার্তা
রোববারের রাজনীতিতে গুম ও মানবাধিকার আবারও কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সরকার গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের কঠোর বার্তা দিয়েছে এবং ‘আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিপরীতে জামায়াত, এনসিপি ও গুমবিরোধী জাতীয় কমিটি স্বাধীন তদন্ত ও বর্তমান সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে।
একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের বিরোধ দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার জায়গাটি এখনো পুরোপুরি মসৃণ নয়। বিরোধী দল সংসদীয় কমিটিতে নিজেদের ন্যায্য অংশীদারত্ব চাইছে, আর সরকার সেই অংশগ্রহণকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করছে।
এর বাইরে বিএনপির জন্য মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কোন্দল, একাধিক প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। জামায়াত আবার গুমের বিচার ও সংসদীয় অধিকার প্রশ্নের পাশাপাশি ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।









