লংমার্চ ঘিরে সরকার-বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস সংকট নিরসন, সারের কৃত্রিম সংকট দূর করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিকে ঘিরে এরই মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লংমার্চের শেষ হবে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানের সমাবেশের মধ্য দিয়ে।
বিরোধী দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্য এসেছে। বিএনপি নেতারা রাজপথে আন্দোলনের বদলে সংসদে এসে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লংমার্চ প্রত্যাহারেরও দাবি এসেছে দলটির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বলছে, কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে সরকার জনরোষের মুখে পড়বে। এনসিপিও লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও তারা সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায়।
লংমার্চকে ঘিরে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। একই সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।
লংমার্চ: ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রাজপথে ১১ দল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস সংকট নিরসন, সারের কৃত্রিম সংকট দূর করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার ও প্রস্তুতি চালানো হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে লংমার্চের বহর ধুমঘাট থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ৬৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদার। এ পথে ২৪টি স্থানে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করা হলে সরকার জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি জনরোষের মুখে পড়বে।
লংমার্চ সফল করতে রাজধানীতে আগে থেকেই লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াত। কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
লংমার্চের অন্যতম প্রধান দাবি যখন তেল-গ্যাস সংকট নিরসন, তখন সরকারও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও আগের সরকারের ভুল পরিকল্পনার প্রভাব মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া একটি চিঠি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। চিঠিতে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। চিঠির ভাষা ও সময়কে দুই দেশের সম্ভাব্য নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকার নাগরিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না এবং সাংবাদিকেরা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারবেন।
বিএনপি: লংমার্চ প্রত্যাহারের আহ্বান, রাজপথের বদলে সংসদে আলোচনার পরামর্শ
বিরোধী দলের লংমার্চের বিপরীতে বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদকেন্দ্রিক রাজনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সংসদে এসে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ এবং আগের সরকারের ভুল পরিকল্পনার কারণে তৈরি হয়েছে। তাই সমস্যা সমাধানে সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চ নিয়ে আরও সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তাঁর বক্তব্য, জনস্বার্থে রাজনীতি করলে শুধু গাড়ির সংখ্যা কমানো নয়, বিরোধী দলের উচিত লংমার্চ কর্মসূচিই প্রত্যাহার করা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও একধাপ এগিয়ে লংমার্চ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল, সেই বেহেশতের ঠিকানা খুঁজতেই বিরোধী দল লংমার্চ করবে।
অন্যদিকে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মাত্র ছয় মাসে সরকারের সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয় এবং এটি বিরোধী দলের বোঝা উচিত।
লংমার্চের বাইরে সংসদেও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে জামায়াত। দলটির সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াত সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছে জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পোশাকশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে লংমার্চের ছয় দফা দাবির বাইরেও অর্থনীতি, জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে দলটি।
এনসিপি: লংমার্চ সফল করার আহ্বান, সামনে আরও কর্মসূচি
১১ দলের লংমার্চকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির পক্ষ থেকে লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সফল করতে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনসিপি বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় দলটি।
এ জন্য সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে এনসিপি। অর্থাৎ লংমার্চকে বিচ্ছিন্ন একটি কর্মসূচি না রেখে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই দেখছে দলটি।
তবে একই সময়ে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দুদকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানও অব্যাহত রয়েছে। দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
অন্যান্য: গণভোটের রায় ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে চাপ
লংমার্চের দাবির সঙ্গে মিল রেখে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির আমির মামুনুল হক বলেছেন, জনগণের ভোটে দেওয়া গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই এবং এটি বাস্তবায়ন করা সরকারের রাজনৈতিক দায়ের পাশাপাশি বৈধতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে। দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, দেশকে সংকটে ফেলে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলে হবে না; সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
অর্থাৎ লংমার্চের ছয় দফা দাবির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও বক্তব্যেও জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, গণভোটের রায় ও সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তৎপরতা, বাড়ছে সংঘাত
নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগকে ঘিরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা সাজ্জাদ হোসেন স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামায়াতের এক নেতার ওপর যুবলীগের হামলার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের ঘিরে বিচ্ছিন্ন তৎপরতা ও সংঘাতের অভিযোগ সামনে আসছে। এতে একদিকে সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দূরত্ব ও আইনি অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠের রাজনীতিতে দলটির উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হয়নি—এমন বার্তাও পাওয়া যাচ্ছে। লংমার্চসহ বিরোধী দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচিকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, তখন আওয়ামী লীগকে ঘিরে এসব তৎপরতাও সামগ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি দিক হয়ে উঠছে।
ছাত্র রাজনীতি: পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক তৎপরতা
লংমার্চকে কেন্দ্র করে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতাও বাড়ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারে বিএনপির প্রথম ১৮০ দিনের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তি পাল্টাপাল্টি ব্যানার দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে পোস্টারিং করেছে ছাত্রদলের একাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিল আগামী ১২ সেপ্টেম্বর করার ঘোষণা এসেছে।
অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভোলায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ছাত্রদলের বহিষ্কৃত এক নেতার বিরুদ্ধেও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা
শনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে রাজপথের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। ছয় দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার যেমন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইস্যু, তেমনি তেল-গ্যাস সংকট, সার ও দ্রব্যমূল্যের বিষয়গুলো সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কর্মসূচিটিকে শুধু রাজনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলন হিসেবে নয়, সরকারবিরোধী জনমত তৈরির একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দল কর্মসূচিতে বড় সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বাধা এলে জনরোষের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এনসিপি কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়ে সামনে আরও লংমার্চ ও মহাসমাবেশের পরিকল্পনা জানিয়েছে। বিপরীতে বিএনপি রাজপথের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
ফলে শনিবারের লংমার্চের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো কতটা জনসমর্থন দেখাতে পারে এবং সরকার কীভাবে কর্মসূচি মোকাবিলা করে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় নজর। একইসঙ্গে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের মতো দাবিগুলো আগামী দিনের রাজনৈতিক চাপের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।









