মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, নিজেদের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কতটা?
আগস্টে মাদক কাণ্ডে বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীর নাম

মাদক নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শীর্ষ মাদক কারবারিদের ‘নির্মোহ ও নিরপেক্ষ’ তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগস্টের শুরুতেই কক্সবাজারে তিনি জানান, মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে টাস্কফোর্স কাজ করবে এবং তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু একই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক-সম্পর্কিত অভিযোগ ও ঘটনায় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ২৮ নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় এসেছে।
বিডি পলিটিক্স ওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে কেউ মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ মাদক সেবনের সময় আটক হয়েছেন, আবার কারও মাদক সেবনের ভিডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার পর কোথাও বহিষ্কার, কোথাও পদ থেকে অব্যাহতি বা পদ স্থগিত করা হয়েছে। আবার কিছু ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি অতীতে মাদক সেবনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নেতারও পরবর্তী সময়ে দলীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আগস্টজুড়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা শুধু মাদক-সম্পৃক্ততার বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়; এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর মাদকবিরোধী অবস্থান, নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর সাংগঠনিক নজরদারি এবং অপরাধের অভিযোগে জবাবদিহির বাস্তব চিত্রও সামনে এনেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি দলীয় পদ-পদবিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই কঠোরতা কার্যকর হচ্ছে?
১২০০ পিস ইয়াবা থেকে শুরু করে মাদক সেবনের অভিযোগ
আগস্টের ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘটনার একটি আসে বগুড়ার নন্দীগ্রাম থেকে। মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ১৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি দলীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
রাজশাহীতেও মাদকসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসে। রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা বাশিরুল ইসলাম বশিরকে ১১১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানায়।
একই জেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিবকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করার তথ্য পাওয়া যায়। এর আগে চাঁদাবাজি ও এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তার মামলা করার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতেও মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করা হয়। বরুয়াজানি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদেক আলীকে ১৪ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এর আগে তাদের মারধর করা হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক সেবনের সময় যুবদল নেতা আমিনুল ইসলামসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ নম্বর কালীর বাজার (উত্তর) ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে একটি আবাসিক হোটেলে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আটকের সময় তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতাও ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানায়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
অর্থাৎ আগস্টে সামনে আসা ঘটনাগুলোর একদিকে রয়েছে মাদক বহন বা কারবারের অভিযোগে গ্রেপ্তার, অন্যদিকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ও সাজা। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পদে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিরুদ্ধে দলীয় জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।
কোথাও বহিষ্কার, কোথাও পদ স্থগিত
মাদক-সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আগস্টে বেশ কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার ধরন এক নয়। কোথাও সরাসরি বহিষ্কার, কোথাও আজীবন বহিষ্কার, আবার কোথাও পদ থেকে অব্যাহতি কিংবা পদ স্থগিত করা হয়েছে।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
একই জেলায় ইয়াবাসহ আটক হন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের ১ নম্বর দুরমুঠ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. মতিউর রহমান তারা। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দলও থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাওন খানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা ছাত্রদল তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া খাড়াতাইয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের এক নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৩ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ সোলায়মান রুবেলের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুয়া, চুরি-ছিনতাই ও ভূমি দখলসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে।
অভিযোগগুলোর পর দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়।
ভিডিও ভাইরালে ব্যবস্থা, কোথাও আবার নীরবতা
আগস্টের ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশের সূত্র ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সরাসরি মাদকসহ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মাদক সেবনের ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে শাওন খানের ঘটনায় যেমন ভিডিও ভাইরালের পর সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তেমনি অন্যান্য এলাকাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা ছবির ভিত্তিতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, যেসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকসহ গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে, সেসবের সবকটিতে দলীয়ভাবে বহিষ্কার বা পদ স্থগিতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আগস্টের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দলীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি অসম চিত্র দেখা যায়। কোনো ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত, আবার কোনো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা হলেও সাংগঠনিক পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
সাজাপ্রাপ্ত নেতাই আবার দলের পদে
আগস্টের মাদক-সম্পর্কিত ঘটনাগুলোর মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের একটি ঘটনা। অতীতে মাদক সেবনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই নেতাকে নিয়েই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের একজনকে সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যজনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
অথচ ২০২২ সালে গাঁজা সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়েছিল এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তারা সংগঠন থেকেও সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এখানেই দলীয় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে। একই ধরনের মাদক-সম্পৃক্ততার অভিযোগে আগস্টে কোনো নেতাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, আবার অতীতে মাদক সেবনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিই কয়েক বছর পর সাংগঠনিক নেতৃত্বে ফিরছেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে বহিষ্কার বা পদ থেকে অব্যাহতি কি স্থায়ী জবাবদিহির ব্যবস্থা? নাকি পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়।
সরকারের ঘোষণা বনাম মাঠের বাস্তবতা
মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকেও আগস্টে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের একটি টাস্কফোর্স কমিটি নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারের এই ঘোষণার সঙ্গে আগস্টের মাঠপর্যায়ের ঘটনাগুলো মিলিয়ে দেখলে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে, মাদক কারবারিদের তালিকা করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদেরও কি একই মানদণ্ডে যাচাই করা হবে?
কারণ আগস্টের ঘটনাগুলোতে এমন ব্যক্তিদের নাম এসেছে, যারা কোনো না কোনো পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের পদে ছিলেন। কেউ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ মাদক সেবনের সময় আটক হয়েছেন, আবার কেউ মাদক সেবনের অভিযোগে দলীয় পদ হারিয়েছেন।
মাদকমুক্ত বুড়িচংয়ের ঘোষণা, বাস্তবায়ন কোথায়?
মাদকবিরোধী অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় কুমিল্লার বুড়িচংয়ে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা এবং মাদকসেবীকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। উদ্দেশ্য ছিল বুড়িচং উপজেলাকে মাদকমুক্ত করা।
তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘোষণার বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, কতজন তথ্যদাতা পুরস্কার পেয়েছেন কিংবা এর মাধ্যমে কতজন মাদক কারবারি বা সেবনকারী আইনের আওতায় এসেছেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
আইনগত ব্যবস্থা হয়েছে, কিন্তু দলীয় জবাবদিহি কতটা?
আগস্টের ঘটনাগুলোকে একসঙ্গে রাখলে একটি দ্বৈত চিত্র স্পষ্ট হয়। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে, কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা হয়েছে, কোথাও মামলা হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় পর্যায়েও বহিষ্কার, পদ থেকে অব্যাহতি ও পদ স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সব ঘটনা একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়নি। বগুড়ায় ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, রাজশাহীতে ১১১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, শেরপুরে ১৪ পিস ইয়াবাসহ দুই ছাত্রদল নেতা আটক, কুমিল্লায় মাদক সেবনের সময় ছয়জন আটক ও সাজা, কক্সবাজারে হোটেলে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে চারজন আটক; এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় সরাসরি যুক্ত। এরপর কোথাও দলীয় সিদ্ধান্ত এসেছে, কোথাও আসে নি।
আবার জামালপুরে গ্রেপ্তারের পর বহিষ্কার, বরিশালে ভিডিও ভাইরালের পর পদ থেকে অব্যাহতি, কুমিল্লায় আজীবন বহিষ্কার এবং চট্টগ্রামে পদ স্থগিতের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আগস্টে অন্তত ২৮ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম মাদক-সম্পর্কিত ঘটনায় আলোচনায় আসার তথ্য তাই শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের হিসাব নয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, মাদকবিরোধী অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নেতাকর্মীদের জবাবদিহিরও পরীক্ষা।
সরকার বলছে শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্মোহ তালিকা হবে। রাজনৈতিক নেতারাও বলছেন মাদকমুক্ত সমাজের কথা। কিন্তু নিজেদের সংগঠনের পদধারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই ‘নির্মোহতা’ কতটা বজায় থাকে, আগস্টের ঘটনাগুলো সেই প্রশ্নই সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এনেছে।









