বিএনপি নেতাদের ঈদ ঘিরে ভিন্ন আমেজ, জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে এবার ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে রয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা দলটির নেতাদের জন্য এটি দ্বিতীয় ঈদ। ফলে এই ধর্মীয় উৎসবে তাদের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস, উচ্ছ্বাস ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজধানীতে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ঈদ উদযাপনে ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। কেউ আবার ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহে নামাজ শেষে রওনা দেবেন নির্বাচনি এলাকায়। ঈদের নামাজ, কোরবানির আয়োজন, শুভেচ্ছা বিনিময়, গণসংযোগ ও দলীয় কর্মসূচি ঘিরে বর্তমানে নেতাদের ব্যস্ত সময় কাটছে।
আগাম বৃষ্টিতে যেসব এলাকায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রী-এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।- বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিতে নজর দেওয়ার নির্দেশ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে আগাম বৃষ্টিতে যেসব এলাকায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে, সেখানে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগাম বৃষ্টিতে যেসব এলাকায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রী-এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।’
শায়রুল কবির খান আরও বলেন, ‘ঈদুল আজহা ত্যাগের মহিমান্বিত উৎসব। যতটুকু জানা গেছে, অধিকাংশ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নিজ নিজ সংসদীয় আসনে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে কোরবানির মাংস বিতরণ ও খাবারের আয়োজনও থাকবে।’
চলবে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ
বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে বিশেষ তৎপরতা থাকবে।
দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন উন্মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করছে। গ্রামবাংলার জনপদে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করছেন তারা।
ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন যারা
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামায়াতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
নাটোরের জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবো। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।- হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীও ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। সেই সঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ঈদে রাজধানীতে থাকছেন।
যারা রাজধানীর বাইরে থাকবেন
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ উদযাপন করবেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জে থাকবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলায় এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নেত্রকোনায় ঈদ উদযাপন করবেন।
দেশের বাইরে আছেন কয়েকজন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানেই তার ঈদ উদযাপনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সিঙ্গাপুরে ঈদ করবেন।
নারী সংসদ সদস্যদের পরিকল্পনা
যোগাযোগ করা হলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার ঢাকায় ঈদ উদযাপন করছি। ঈদের পর স্বল্প সময়ের জন্য এলাকায় যাবো।’
আরেক সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা জানান, ঈদের আগের দিন তিনি এলাকা থেকে ঢাকায় ফিরবেন, পরে আবার এলাকায় যাবেন।
নেতারা যা বলছেন
জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিরোধীদলে থেকে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা সংগ্রাম করেছেন। এখন তারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে কাজ করছেন। তাই এবারের ঈদ তাদের কাছে আত্মত্যাগের শিক্ষা ও অর্জনের আনন্দ- দুটোরই প্রতীক।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলেছেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই ঈদের সময়ও নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘নাটোরের জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবো। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।’









