উন্নয়ন বার্তায় বিএনপি, মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে জামায়াত, মাঠে সক্রিয় এনসিপি

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুরো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও অগ্রাধিকার সামনে নিয়ে এগোচ্ছে। কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরতে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত, কেউ জনজীবনের সংকটকে ইস্যু করে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। আবার কেউ সাংগঠনিক বিস্তার ও ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এসব চিত্র দেখা গেছে।
সংবাদে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মূল্যস্ফীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে সক্রিয় থেকেছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি ও সংগঠন বিস্তারে মনোযোগী হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বাম দলগুলো রাজপথে ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ জোরদার করেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন বার্তায় সক্রিয় বিএনপি
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই দিনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সক্রিয় ছিল। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রশাসক আব্দুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একইসঙ্গে দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগ বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কো সফরে গেছেন। এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে দলীয়ভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে চাপ বাড়াচ্ছে জামায়াত
মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছে।
একই দিনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি রাজধানীর একটি পাইকারি বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি জনজীবনের ইস্যুতে সম্পৃক্ততার বার্তা দেন।
রাজশাহীতে ১৬ মে নির্ধারিত ১১-দলীয় জোটের সমাবেশকে সামনে রেখে দলীয় তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এছাড়া আন্তর্জাতিক ও মানবিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে দলটি রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে।
মাঠে সক্রিয়তা ও সম্প্রসারণে এনসিপি
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি সাংগঠনিক বিস্তার ও ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
দলের মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকা সফর করে সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানায়।
রাজধানীতে ‘শাপলা গণহত্যা’ বিষয়ক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়, যেখানে নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।
এছাড়া ন্যাশনাল ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা এবং লক্ষ্মীপুরে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠন সম্প্রসারণের কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
ইস্যুভিত্তিক রাজপথে বাম দল
দিনটিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) হাম মহামারীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি এবং স্বাস্থ্যখাতে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
তাদের কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সমালোচনা তুলে ধরা হয়।
ছাত্র রাজনীতিতে বহুমাত্রিক তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।
একইসঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সাবেক নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ‘কুরআন দিবস’ উপলক্ষে দেশব্যাপী কুরআন বিতরণ ও আলোচনা সভা করেছে।
ছাত্র ইউনিয়ন উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে।
রাজনৈতিক বার্তা কী?
দিনের সামগ্রিক চিত্রে স্পষ্ট, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। জামায়াত জনজীবনের সংকট, বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। আর এনসিপি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে সংগঠন বিস্তার ও মাঠপর্যায়ের ইস্যুভিত্তিক রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে।









