জুলাই সনদ নিয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কোন ‘অপরাজনীতি’ নয়: চিফ হুইপ
নিজস্ব প্রতিবেদক৩ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৬:৩৭ PM

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এ ইস্যুতে কোনো ধরনের ‘অপরাজনীতি’ বরদাশত করা হবে না; নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আইনি প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার এ সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি বা দ্বিধার অবকাশ নেই।
চিফ হুইপ বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, এই সনদকে ঘিরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা ‘অপরাজনীতি’ সহ্য করা হবে না।
সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ইতোমধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান পরিবর্তন করছে—কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছিল, যা বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও প্রচলিত নয়। “কোনো অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না”—যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, তিনি ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, বরং সুশাসনের উদাহরণ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তিনি একজন সাশ্রয়ী নেতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ কঠিন সময় পার করেছে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছিল এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির। বক্তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানান।









