চাপ নয়, চাহিদার ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত: হুমায়ুন কবির
১০ বছরে ৮০ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে নয়, দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রী ও রাজস্ব বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিমানের বহর বড় করা জরুরি। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশে ৭০ থেকে ৮০টি কিংবা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনো চাপের কারণে নয়। এটা আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী।’ তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ কেনা হবে।
এসময় বাংলাদেশের বর্তমান উড়োজাহাজ বহর এভিয়েশন খাতের কাঙ্ক্ষিত সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, নতুন রুট চালু করতে হলে বিমানের বহরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে ব্যবসা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি এই চাহিদা পূরণে শুধু বোয়িং নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসসহ বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে নীতিগতভাবে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি আগেই
বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা সে সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
চুক্তিতে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ রয়েছে। প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুটে, ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘপাল্লার রুটে এবং ৭৩৭ ম্যাক্স মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা
১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তির পরও বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে আরও অনেক বেশি উড়োজাহাজের।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে বহর রয়েছে, তা দিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ কারণে নতুন রুটে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক এভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে পর্যায়ক্রমে আরও উড়োজাহাজ কেনা হবে।
তবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক উড়োজাহাজ কেনার বদলে প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ক্রয় করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এভিয়েশন হাব হওয়ার লক্ষ্য
বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালু করতে না পারলে বাংলাদেশ সম্ভাব্য ব্যবসা হারাবে। তাই বিমানের বহরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বড় বহরের পাশাপাশি যাত্রীসেবা, রুট ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ালেই এভিয়েশন হাব হওয়ার লক্ষ্য অর্জিত হবে না; সেগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকরভাবে পরিচালনা করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ভালো
উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
বৈদেশিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রেখেই সরকার এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটির সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।









