পুলিশের বাধায় ভারতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান পণ্ড

ভারতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীর অংশ নেওয়ার কথা থাকা ইউরোপ–এশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দিল্লি পুলিশের ‘ব্যাখ্যাহীন হস্তক্ষেপের’ কারণে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
দ্য ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া), হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন এবং সহযোগী আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. সালিম মাহমুদের নাম ছিল।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। স্বল্প সময়ের নোটিশে বিষয়টি আয়োজকদের জানানো হয়। এ সিদ্ধান্ত তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ায়েল আওয়াদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কী কারণে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উঠে আসে। সাংবাদিক চন্দন নন্দী এক পোস্টে জানান, নয়াদিল্লি ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীর সমবেত হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও চেক রাজনীতিক ড. ওন্দ্রেজ দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী, লেখক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরান নবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও জ্বালানি আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সালিম মাহমুদ এবং নেপালের শিশু ও নারী অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরের।
এ ছাড়া পোস্ট-অ্যাকিউট ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. রাবি আলম, এফসিসি-আইএপিসি গ্লোবাল ফোরামের চেয়ারম্যান এস ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বীণা সিক্রি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ড. আসিফ ইকবাল এবং ব্রাসেলসভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এএফএম গোলাম জিলানীরও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রক ও আয়োজক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এফসিসি ও আইএপিসির প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ায়েল আওয়াদ।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা, শান্তি ও সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়াই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের অল্প আগে অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় আলোচনা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য যাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে এ ঘটনায় সৃষ্ট অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উপযুক্ত সময়ে অনুষ্ঠানটি পুনরায় আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তারা জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানটি বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীর অংশ নেওয়ার বিষয়টি। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরের এ আলোচনায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. সালিম মাহমুদের বক্তা হিসেবে থাকার বিষয়টি অনুষ্ঠানের ঘোষিত তালিকায় ছিল। ফলে দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে বলেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফলে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে শেষ মুহূর্তে পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং এর পেছনের কারণই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আয়োজকেরা বলছেন, অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। একই সঙ্গে তাঁরা অনুষ্ঠানটি পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।









