দাবির মুখে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
শহীদ পরিবার-আহতদের তোপের মুখে মাহাদী আমিন

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তোপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। রাজধানীতে জুলাই বিপ্লববিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে উঠলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তার সামনে স্লোগান দিয়ে এসব দাবি জানান। পরে তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলন’-এ এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা একযোগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
পরে তাদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, “আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কথা দিচ্ছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।”
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
মাহদী আমিন বলেন, শহীদরা এমন একটি প্রকৃত অর্থে সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। সেই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার সঙ্গে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যার চার শতাধিক নেতাকর্মী জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর আগে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। একই সময়ে হাজারো মানুষ গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ভিত্তি রচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের মূল রাজনৈতিক পরিচয় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি এবং বাংলাদেশকেন্দ্রিক রাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ঐক্যে বিশ্বাসী সব মানুষকে একই আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।









