প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন-এর প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেল এবং কার সুপারিশে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলো—এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সমালোচকদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংগঠনটির প্রথম আলোচিত কার্যক্রম ছিল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আঁকা গ্রাফিতি অপসারণ। সে সময় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ উদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুবলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সমালোচকদের আরও দাবি, বিডি ক্লিন মূলত সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর একটি প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হতো এবং এর মাধ্যমে তরুণদের প্রভাবিত ও সংগঠিত করার কাজ করা হতো।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও নতুন নয়। দেশ রূপান্তর-এ ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্যারিস, লাউতলাসহ চারটি খাল পরিষ্কারের জন্য তিনটি বিলের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া লাউতলা ও কাউলা খাল পরিষ্কারের জন্য আরও ৯০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট সময়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ওই দুটি খাল স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হলেও পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন তৎকালীন এপিএস ফরিদ উদ্দিন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আহ্বান জানিয়ে তরুণ-শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাল, নালা-নর্দমা ও বিভিন্ন জনপরিসর পরিষ্কার করানো হলেও একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বস্তিবাসীর উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কখনও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কখনও প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ ও অতীতের বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, সিআরআই-সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা একটি সংগঠন কীভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেল এবং সেই সাক্ষাতের পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছেন।









