খামেনির বিদায়ে ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি

ইতিহাসের পাতায় আরেকটি আবেগঘন অধ্যায়ের অপেক্ষা। কোটি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর অশ্রুর মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ইরানের এই প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা। এরপর দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দাফন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে ৪ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান, যা শেষ হবে ৯ জুলাই তার জন্মভূমি মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এটি হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শোকানুষ্ঠান। তেহরান, কোম এবং মাশহাদ-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রতিনিধি ও অতিথিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি প্রায় চার দশক ধরে ইরানের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং আদর্শিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছেন। পশ্চিমা বিশ্বের চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং নানা কূটনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ইরানের মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক, স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রতীক এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
তিনি কখনও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি। হরমুজ প্রণালী, পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে তিনি দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। এজন্য অনেকের কাছে তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, বরং প্রতিরোধের এক জীবন্ত প্রতীক।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল ভিন্ন এক খামেনির গল্প। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। বিলাসিতা থেকে দূরে থাকা এই নেতাকে ঘিরে বহু গল্প প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তার স্নেহ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সহজ সম্পর্ক সমর্থকদের কাছে তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
কেউ তাকে দেখেছেন কোমল হৃদয়ের অভিভাবক হিসেবে, আবার কেউ দেখেছেন কঠোর ও অনমনীয় শাসক হিসেবে। কিন্তু বন্ধু-শত্রু নির্বিশেষে একটি বিষয় নিয়ে খুব কম মানুষেরই দ্বিমত আছে-আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্বদের একজন।
এখন পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ইরানের দিকে। লাখো মানুষের শোক, কোটি মানুষের স্মৃতি আর ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি-সবকিছুর সাক্ষী হতে যাচ্ছে ৯ জুলাই।
ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলে যাচ্ছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ এবং প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলবে আরও বহু বছর। আর সেই কারণেই এই বিদায় শুধুই একজন নেতার বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসান।









