তারেক সরকারের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার প্রথম বাজেট
মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থবিলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমান সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট। ফলে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন ব্যয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে বাজেট উপস্থাপনের সুযোগ ছিল না। সে সময় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় ও সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির ভিত্তিতে নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন আসায় বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদ না থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়। ২ জুন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। জাতীয় সংসদ অধিবেশন না থাকায় তাঁর বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়েছিল।
তবে এবারের বাজেটের বিশেষত্ব হলো, দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ বাজেট উপস্থাপনের ধারায় ফিরে এসেছে সরকার। নতুন নির্বাচিত সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাজেট নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও অনুমোদনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ, রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যেই প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর প্রস্তাবিত বাজেটের আয়-ব্যয়, ঘাটতি, কর কাঠামো, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এরপর সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।









