২৪ ঘণ্টায় ৮ বার পুশইনের চেষ্টা, সাত দিনে ১৯টি প্রতিহত
সীমান্তে কড়া প্রতিরোধে বিজিবি

সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ৮টি পৃথক পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্য দিয়ে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৯টি পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন মেনে নেওয়া হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
শনিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় অন্তত ৬২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে তিনজন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়।
একই সময়ে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তাদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় সাতজন ব্যক্তিকে এবং দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও চারজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বর্তমানে দুর্গাপুর সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করানো হয়। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও সেই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
অন্যদিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বে জড়ো করে রাখা ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকাতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে বিজিবি।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনাগুলোতে যাদবপুরে ৩ জন, করমুডাঙ্গায় ১৭ জন, বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ীতে ২১ জন, দিঘলটারীতে ৭ জন, দুর্গাপুরে ৪ জন এবং বড়বাড়ী প্রধানপাড়ায় ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে অন্তত ৬২ জনকে সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অন্তত ১৯টি পুশইন অপচেষ্টার তথ্য প্রকাশ করেছে বিজিবি। এর আগে গত ৪ জুন আগের ২৪ ঘণ্টায় ১০টি পৃথক পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহতের তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ১ জুন বেনাপোল সীমান্তেও পুশইনের একটি ঘটনা প্রতিহত করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ৮টি ঘটনার তথ্য যুক্ত হওয়ায় এক সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসা পুশইন অপচেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৯টিতে।
বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।









