জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধারাবাহিক সংস্কারের তাগিদ ইইউ'র
নিজস্ব প্রতিবেদক২৮ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৫:০৪ PM

জুলাইয়ের ‘জাতীয় চার্টার’ বা জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনব্যবস্থায় ধারাবাহিক সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তারা বলছে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন জনমনে আস্থা তৈরি করলেও, কিছু আইনি ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে—যা কাটিয়ে উঠতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এতে মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনটি একটি বিশ্বাসযোগ্য ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, এই ইতিবাচক মূল্যায়নের পরও কিছু ঘাটতি থেকে গেছে। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন জনমনে আস্থা বাড়ালেও আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়াগত কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হলে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
ইইউ মিশনের মতে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল এবং ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অস্বচ্ছতা দেখা যায়নি। প্রার্থীরাও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ পরিবেশে প্রচারণা চালাতে পেরেছেন। নির্বাচনকালীন কোনো অভিযোগ বা সংকট তৈরি হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে নির্বাচন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে মিশনটি। বিশেষ করে নির্বাচনী অর্থব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে মোট ১৯টি সুপারিশ দিয়েছে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন, যার মধ্যে ছয়টিকে অগ্রাধিকারযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মিশনের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে উন্নতির সুযোগ সব সময়ই থাকে। তাই অর্জিত অগ্রগতিকে ধরে রেখে সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
জানা যায়, গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে কাজ শুরু করে। নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার শক্তি, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ইইউর এই পর্যবেক্ষণে একটি বার্তা স্পষ্ট—নির্বাচন নিয়ে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত থাকলেও, সেই আস্থা টেকসই করতে হলে জুলাই সনদের আলোকে ধারাবাহিক ও কার্যকর সংস্কারই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
টিআই/









