বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, এটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির পরিস্থিতিও তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব নয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না; সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।’
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের এ পর্যায়ে সংসদের সরকারদলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
পরে সংসদের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই সংসদের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত।’
নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণ খেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।’
এরপর রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত দুই মিনিটের বক্তব্যের সময় শেষ হয়ে গেলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাইক বন্ধ হওয়ার পরও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার আরও কয়েক দফা ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সরকারদলীয় চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না।’
এরপর ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অন্য সদস্যের বক্তব্যে বাধা না দেওয়ার জন্য সরকারদলীয় সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান।







