ভোটার বদল: উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ভোটার এলাকা বদল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ভোটার হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ঢাকা-৮ আসনে। অন্যদিকে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডিএসসিসি থেকে ভোটার হয়ে গেছেন ডিএনসিসির আফতাবনগর এলাকায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পৃথকভাবে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার স্থানান্তরের তথ্য গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। একই দিন বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি জানান আসিফ মাহমুদ।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ডিএনসিসির উত্তরা এলাকার নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ডিএসসিসির আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে তাঁর আবেদন অনুমোদন করেছে ইসি।
নাসীরুদ্দীনের নতুন ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ আসনটি ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন এনসিপির এই নেতা।
ওই নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর এবার সেই আসনের ভোটার হিসেবেও নিজের নিবন্ধন করলেন নাসীরুদ্দীন।
অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ডিএসসিসি এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ডিএনসিসির আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইসির নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে ইসি সেই আবেদন অনুমোদন করেছে।
দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণে গিয়ে নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-৮-এর ভোটার হয়েছেন। আর আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তরে গিয়ে আফতাবনগরে ভোটার হয়েছেন। অর্থাৎ একই সময়ে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতার ভোটার স্থানান্তর হয়েছে বিপরীত দুই দিকে।
নাসীরুদ্দীনের ক্ষেত্রে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, তিনি যে ঢাকা-৮ আসনের ভোটার হয়েছেন, সেখানেই মাত্র কয়েক মাস আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর এবার ওই আসনের স্থায়ী ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন তিনি।
তবে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়া এই ভোটার স্থানান্তরের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এখন মূলত নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ওপর।
একই দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার ভোটার এলাকা বদলের এই ঘটনা এনসিপির আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতেও নতুন হিসাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।









