নান্দাইলে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের নামে ৫ হাজার করে টাকা আদায়
ফেরত চাইলে বিএনপির ‘বড় নেতা’র হুমকি

সরকারের ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও কার্ড না দিয়ে নানা টালবাহানা করছেন তিনি। টাকা ফেরত চাইলে নিজেকে বিএনপির বড় নেতা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো এবং সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া তথ্যকে মিথ্যা বলে বিবৃতি দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি। গত ২৭ আগস্ট দেওয়া অভিযোগে তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, সরকারি ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. আবুল কালাম তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেন। একইভাবে তাঁর চাচি মজিদা খাতুনের কাছ থেকেও ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু সাখাওয়াত ও তাঁর স্বজন নন, একই এলাকার আরও একজনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শিমুলাটিয়া গ্রামের মৃত গণির ছেলে মো. লতিফ মিয়ার কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন আবুল কালাম।
কার্ড না দিয়ে শুরু টালবাহানা
অভিযোগকারীর ভাষ্য, টাকা নেওয়ার সময় দ্রুত ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড করে দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম নানা ধরনের কথাবার্তা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টাকা ফেরত চাওয়ার পর আবুল কালাম নিজেকে বিএনপির বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখান। একই সঙ্গে তাঁকে এবং অন্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাখাওয়াতের অভিযোগ, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের জানান। পরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংবাদ প্রকাশের পর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি
লিখিত অভিযোগে সাখাওয়াত দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আবুল কালাম তাঁর দলবল নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে ও তাঁর মাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া তথ্যকে মিথ্যা বলে বিবৃতি দেওয়ার জন্যও তাঁকে জোরজবরদস্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাখাওয়াতের ভাষ্য, একদিকে সরকারি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে টাকা ফেরত চাওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ কারণে তিনি বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন।
তদন্ত চেয়েছেন অভিযোগকারী
অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তাঁর ও অন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। বিশেষ করে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দালালি বা অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।








