শহীদ মিনারে কিশোরের লাশ: অনুসন্ধানে যা জানা গেলো

মানিকগঞ্জে শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভে ঝুলন্ত অবস্থায় সিহাব হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি প্রচারণা। আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সিহাবকে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিপরীতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দাবি করা হচ্ছে, ছাত্রলীগ ছেড়ে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত হওয়ায় তাকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন।
তবে দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে পরিবার, বন্ধু, কর্মস্থলের ব্যক্তি ও পুলিশের বক্তব্যে সিহাবের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। যদিও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের মেঘশিমুল এলাকায় ধলেশ্বরী মাঠের পশ্চিম পাশে একটি শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভে গতকাল রোববার সকালে সিহাবের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সিহাবের নানা মো. আকরাম হোসেন বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
ঘটনার পর সিহাবের ঝুলন্ত অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ছবিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নানা রাজনৈতিক দাবি। এক পক্ষ তাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে দাবি করে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলছে। অন্য পক্ষ দাবি করছে, সিহাব ছাত্রলীগ ছেড়ে জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের লোকজন তাকে হত্যা করেছে।
কিন্তু এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে সিহাবের পরিবার, স্বজন, বন্ধু, কর্মস্থলের ব্যক্তি, পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে দ্য ডিসেন্ট। সেই অনুসন্ধানে রাজনৈতিক হত্যার দাবির পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নৌভ্রমণে যাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন সিহাব
সিহাব নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে তিনি বিভিন্ন কাজ করতেন। সর্বশেষ মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাছবাজারের ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেনের দোকানে কর্মচারী হিসেবে মাছ কাটার কাজ করতেন।
গত শনিবার তিনি দোকান থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। ওইদিন রাতে বাড়ির বাইরে যাওয়ার আগে মা, নানা ও বন্ধুর কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন সিহাব। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে নৌভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
সিহাবের বন্ধু শাফিনের সঙ্গে তার মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও স্ক্রিনরেকর্ডও সংগ্রহ করেছে দ্য ডিসেন্ট।
সংগৃহীত স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সিহাব তার ফেসবুক আইডি Danger Sihab থেকে শাফিনের ফেসবুক আইডি Ahmed’s Safin-এ লিখেছেন, ‘Tk hobe tor kase 500’। জবাবে শাফিন লেখেন, ‘আমি টাকা কই পাবো’। পরে সিহাব লেখেন, ‘Qq, Tor mar kase ca, Dekh dey nky’।
শাফিন জানান, এই কথোপকথন শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার দিকে হয়।
এরপর রাত ১১টা ৩ মিনিটে সিহাব শাফিনকে মেসেঞ্জারে লেখেন, ‘ভাগিনা, ভালো থাকিস, আর ভুল করলে মাফ কইরা দিস, এক নজোর দেখবার ইছা হইলে সহিধ মিনারে আয়’।
এরপর শাফিনের পক্ষ থেকে আর কোনো জবাব দেখা যায়নি। শাফিনের ভাষ্য, সকালে তিনি ওই মেসেজ দেখেন। ততক্ষণে সিহাবের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
সিহাব ও শাফিন সম্পর্কে মামা-ভাগিনা হলেও সমবয়সী হওয়ায় তারা বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন।
সিহাবের মা মুক্তা বেগমও জানিয়েছেন, শনিবার রাতে তার ছেলে ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন।
দ্য ডিসেন্টকে তিনি বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিহাব তাকে বলেন, ‘মা ৫০০ টাকা দাও আমারে।’ টাকা কেন লাগবে জানতে চাইলে সিহাব জানান, তার বন্ধুরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের সঙ্গে ঘুরতে ও আড্ডা দিতে যাবেন।
মুক্তা বেগম বলেন, তিনি সিহাবকে আগের দুই দিনে ৯০০ টাকা খরচ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ৫০ বা ১০০ টাকা লাগলে দিতে পারবেন বলেও জানান। নানার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এরপর সিহাবকে ভাত খেতে বললে সে জানায়, বন্ধুরা বাইরে অপেক্ষা করছে। একপর্যায়ে মায়ের হাত ছাড়িয়ে বাইরে চলে যায়।
মুক্তা বেগম জানান, আগের রাতেও সিহাব বন্ধুদের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল। শনিবার রাতে আবার বন্ধুর সঙ্গে থাকার কথা বলে বের হয়। যাওয়ার সময় সে মাকে বলেছিল, পরদিন বাড়িতে এসে তার কোলে ঘুমাবে।
নানার কাছেও চেয়েছিলেন টাকা
সিহাবের নানা আকরাম হোসেনও জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে সিহাব তার কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিলেন।
আকরাম হোসেনের ভাষ্য, নৌকা ভ্রমণে যাওয়ার কথা বলে টাকা চেয়েছিল সিহাব। তবে সে সময় তার কাছে টাকা না থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি। বরং নৌভ্রমণে যাওয়ার আগের দিন টাকা দেওয়ার কথা বলেন।
নানা তাকে রাতে বাইরে না থেকে বাড়িতে ঘুমাতে বললেও সিহাব বন্ধুর কাছে থাকার কথা জানিয়ে বেরিয়ে যায়।
পরদিন সকালে শহীদ মিনারে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
১০ আগস্ট নৌভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল
সিহাবের বন্ধু শাফিন ও শ্রাবণ জানিয়েছেন, তাদের ১০ আগস্ট নৌভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সিহাবের মৃত্যুর পর সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে ১২ আগস্ট করা হয়েছে। তবে ওই দিনও তারা নৌভ্রমণে যাবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
শ্রাবণ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, তারা এলাকার কয়েকজন ভাই-বন্ধুর সঙ্গে ১০ আগস্ট নৌভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল।
এ তথ্য সিহাবের মৃত্যুর আগের রাতে ৫০০ টাকা চাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন না সিহাব
সিহাবের পরিবার জানিয়েছে, শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে থাকার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। আগের রাতেও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন।
তবে সিহাবের দুই বন্ধু শাফিন ও শ্রাবণ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তারা তিনজন একসঙ্গে ছিলেন। শনিবার রাতে সিহাব তাদের সঙ্গে ছিলেন না।
শাফিন বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি, শ্রাবণ ও সিহাব শ্রাবণের বাসায় ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি নিজের বাসায় ছিলেন এবং সিহাব ও শ্রাবণের সঙ্গে ছিলেন না।
শ্রাবণও একই তথ্য জানিয়েছেন।
ফলে শনিবার রাতে সিহাব কার সঙ্গে ছিলেন, কোথায় ছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘সিহাব কোনো রাজনীতি করতো না’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিহাবকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে দাবি করা হলেও তার মা, নানা, দুই বন্ধু, কর্মস্থলের ব্যক্তি এবং পুলিশি বক্তব্যে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিহাবের মা মুক্তা বেগম দ্য ডিসেন্টকে বলেন, ‘এতটুকু পোলাপান কী রাজনীতি করবে? আমার ছেলে মাছের ব্যবসায় মাছ কাটে, বাড়িতে আসে যায়, একটু আধটু বন্ধুবান্ধবের লগে আড্ডা দেয়। সে কোনো রাজনীতি করতো না।’
নানা আকরাম হোসেন বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী ও মাছ ব্যবসায়ী। তবে তার নাতি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং রাজনীতি পছন্দও করতেন না।
সিহাবের কর্মস্থলের মালিক মাছ ব্যবসায়ী মনির হোসেনও বলেন, সিহাব কোনো সময় রাজনীতি করতেন না। সকালে তার দোকানে আসতেন এবং রাতে বাসায় চলে যেতেন।
সিহাবের বন্ধু শাফিন বলেন, ‘সিহাব কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না।’
অন্য বন্ধু শ্রাবণও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
আওয়ামীপন্থীদের দাবি কী
সিহাবের মৃত্যুর পর তার ঝুলন্ত অবস্থার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি প্রতীকী ঝুলন্ত ছবির সঙ্গে দাবি করা হয়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ছাত্রলীগ কর্মী সিহাবকে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজ থেকেও একই ধরনের দাবি করা হয়। সেখানে সিহাবকে ছাত্রলীগ কর্মী উল্লেখ করে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যও একই ধরনের দাবি করে একটি ঝুলন্ত ছবি পোস্ট করেন।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট ও পেজে একই দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব পোস্টে সিহাবের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা দলীয় পদ-পদবির তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিপরীত দাবি বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের
অন্যদিকে এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একই ছবি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়।
তাদের পোস্টে বলা হয়, ছাত্রলীগ ছেড়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ায় সিহাবকে তুলে নিয়ে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন।
অর্থাৎ একই মরদেহের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষ দুই ধরনের রাজনৈতিক হত্যার গল্প প্রচার করছে।
কিন্তু দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে পরিবার, বন্ধু, কর্মস্থলের ব্যক্তি ও পুলিশের বক্তব্যে সিহাবের ছাত্রলীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যা বলছে পুলিশ
ঘটনার পর মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাগীর এলাকায় ধলেশ্বরী সেতুর দক্ষিণ পাশে খেলার মাঠে শহীদ মিনারে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একজন পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মনির হোসেন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে যেসব প্রচারণা চলছে, সেগুলো অপপ্রচার।
ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং মৃত্যুর কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
ময়নাতদন্তেই মিলবে মৃত্যুর কারণ
সিহাবের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক হত্যার নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে আসেনি।
অন্যদিকে সিহাবের শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি, তিনি শনিবার রাতে কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কীভাবে শহীদ মিনারে পৌঁছালেন—এসব প্রশ্নেরও পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি।
তার আগে মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে নৌভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা, রাতে বন্ধুর কাছে থাকার কথা বলে বের হওয়া এবং রাত ১১টা ৩ মিনিটে বন্ধুকে পাঠানো বিদায়ধর্মী মেসেজ—এসব তথ্যও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সিহাবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, তার মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য এবং মৃত্যুর আগে তার গতিবিধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো রাজনৈতিক দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।








