'সামনে কঠিন পরীক্ষা', তারেক রহমানের সতর্কবার্তা
সাফল্য নির্ভর করছে তৃণমূল কর্মীদের ওপর

সামনে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার সাফল্য শুধু মন্ত্রী-এমপিদের ওপর নির্ভর করে না, বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরই তা নির্ভরশীল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সময়কে হালকাভাবে নিলে ক্ষতি হবে দেশের, ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান জানান, আন্দোলন ও নির্বাচনে সাফল্যের পর এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে একটি সফল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আর সেই সাফল্য নির্ভর করছে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিষ্ঠা, শ্রম ও অংশগ্রহণের ওপর।
তিনি বলেন, “আমাদের সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ও অপেক্ষা করছে। এই সময়কে যদি আমরা হেসেখেলে পার করে দিতে চাই, তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি হবে দেশের, ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।”
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই পথ ধরেই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে। বিএনপি নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল, দেশের মানুষ তা বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারকে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ এটি আর শুধু বিএনপির ইশতেহার নয়। দেশের ৫২ শতাংশ ভোটার যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি এখন জনগণের ইশতেহার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
সরকারের সাফল্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, “২১৪ জন সংসদ সদস্য কিংবা ৫০ জন মন্ত্রী একা পরিশ্রম করলেই সরকারের কার্যক্রম সফল হবে না। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন মাঠে নেমে কাজ করবেন, তখনই কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারেক রহমান একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় একবার বাড়ির এক কর্মচারীকে অসম্মানজনক ভাষায় সম্বোধন করলে বিষয়টি জানতে পেরে জিয়াউর রহমান তাকে ওই কর্মচারীর কাছে কান ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের শিক্ষা আমাদের পরিবার ও সমাজে মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশে ফিরে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাদের সমাজে এসব মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। বড়দের সম্মান করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সবার সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করার মতো বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।” এ বিষয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
পিতার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবে ওমরা পালনকালে এক ইন্দোনেশীয় ব্যক্তি বাংলাদেশের নাম শুনেই জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেছিলেন। সে সময় একজন সন্তান হিসেবে তিনি গর্ব অনুভব করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার, নতুন শিল্পায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ শহীদ জিয়ার বিভিন্ন চিন্তা ও কর্মসূচিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সফল আন্দোলন করেছি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সফল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব হবে।”







