‘র্যাব বিলুপ্তি বা র্যাব–সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া।’
র্যাবের বিলুপ্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ এ কথা বলেন। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় র্যাবের নতুন মহাপরিচালক এ কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ–সুবিধা নিয়ে বেড়ে উঠছি, সে ক্ষেত্রে আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা, কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। সুতরাং র্যাব সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’
নাম পরিবর্তন, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন সরকারের বিবেচনার বিষয় বলে মনে করেন র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজটা করে যেতে চাই। আর অভ্যন্তরীণ কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ ছাড় পাচ্ছে না। আশা করি, বেলা শেষে ভালো অবস্থানে যেতে পারব এবং র্যাবের বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে।’
র্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন সময় কী কী অপরাধের কারণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় এল, তা বিশ্লেষণ করা দরকার বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন যে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি হয়তো ছিল, কিছুটা পদস্খলন হয়তো ছিল বলে এ রকম একটা বিষয় এসেছে। তো আমরা যদি সেই জায়গাটা মেরামত করতে পারি, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো থাকবে না।’
সম্প্রতি র্যাবের বিভিন্ন সাফল্য এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সম্প্রতি র্যাবের বিভিন্ন অভিযানের তথ্য এবং র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র্যাব মহাপরিচালক।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে র্যাবের ক্রসফায়ারের মামলার নথি পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন। তদন্ত শেষে প্রমাণ পেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের কথাও জানিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে র্যাব সরকারকে সহায়তা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আছে, যেটুকু তথ্য থাকবে, তার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। যে তথ্য আমার কাছে নেই বা থাকবে না, আমার দেওয়ার সামর্থ্য বা সাধ্য নেই, সে ক্ষেত্রে হয়তো আমরা অপরাগতা প্রকাশ করতে পারব। কিন্তু যতটুকু সাধ্য বা সামর্থ্যের মধ্যে তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব।’
সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে আহসান হাবীব বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যোগাযোগ করেছে, এমন তথ্য আমার জানা নেই।
র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গে আহসান হাবীব বলেন, বিগত দেড় বছরে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যদি র্যাবের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন, দেখবেন, র্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই। তার মানে এতে প্রমাণিত হয় যে র্যাবকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য। বিশ্বাস করি, র্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমরা পেয়েছি।’
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের একটা সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে। এটাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র্যাবের থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। আমি চাই র্যাব পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর একটা সংগঠন গড়ে হিসেবে উঠুক। ভবিষ্যতে র্যাব অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।’
জঙ্গিবাদ দেশে আছে কি না, যদি থাকে সেটি নির্মূলে র্যাবের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ—এ বিষয়গুলো আছে কি না, সেই জবাব আমি দিতে চাই না। আমরা কাজ করছি, যে বাদই থাকুক না কেন। উগ্রবাদ থাক, জঙ্গিবাদ থাক, যা–ই থাকুক না কেন বা আছে কি না, সেটায় না গিয়ে বরং যদি কিছু থেকে থাকে, এগুলোর ওপর আমরা কাজ করছি। কাজগুলো চলমান আছে। যে বাদই থাকুক, আমরা সব বাদকে নির্মূল করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।’
সুন্দরবনের জলদস্যু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।