জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামি সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কারাগারে থাকা বাকি ছয় আসামিকে আগামী ২২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান ও শাজাহান খান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। একই সঙ্গে পলাতক আসামি মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশনা চান তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে এসব আদেশ দেন।

এর আগে গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। ওই দিন এক ব্রিফিংয়ে মামলার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তৎকালীন সরকারের নীতি এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলন দমন করা হয়েছিল। আসামিরা তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আন্দোলন দমনে অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর তামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জুলাই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পৃথক একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটর তামীম।

ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ এগোল। আগামী ২২ নভেম্বর কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে।