প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে শনিবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কাজ করেন। লাইভে রাশেদ অভিযোগ করেন, প্রতিবেদন দুটির মাধ্যমে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলটির এক শীর্ষ নেতার বৈঠকের অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্তের চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।
লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের বক্তব্যের একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ খান আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ছেন। পত্রিকাটিতে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটির বক্তব্য ও উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানান তিনি।
শনিবার আমার দেশ-এ ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সহকারীরা কী করছেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। দুটি প্রতিবেদনেই রাশেদ খানের নাম উল্লেখ করা হয়।
লাইভে ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনটির সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, সেখানে তাঁকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ তাঁর কাজের বিষয়ে সামান্যই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির উপস্থাপন ও বক্তব্যের কারণে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও ক্ষোভ জানান রাশেদ। তিনি বলেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লাইভে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জ্যেষ্ঠ ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমার দেশ-এ তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রাশেদ এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে তদন্তের চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান কিংবা দলটির গঠিত তদন্ত দলের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রমাণ সরবরাহ করতে পারবেন। তাঁর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে জামায়াত তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বৈঠকের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, লাইভে তার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি রাশেদ। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।








