ডাকসু-চাকসুসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ, পিএসসি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, তরুণদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রাজপথে আন্দোলন গড়ে উঠবে। ভালোয় ভালোয় সঠিক পথে ফিরে না এলে আওয়ামী লীগের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে সরকারকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডাকসুর জিএস ফরহাদ।

ফরহাদ বলেন, বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তরুণদের ভোটে লাল কার্ড দেখানোর আশঙ্কা থেকেই সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।

বক্তব্যে অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসেও তরুণদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পিএসসি ও সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ

সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার সমালোচনা করে ডাকসুর জিএস অভিযোগ করেন, পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিসিএস পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ।

এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে দলীয় প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগব্যবস্থাকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফরহাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর সরকার সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তার বিপরীত আচরণ করা মুনাফেকির পরিচয়।

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় ও জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।

সরকারকে তিন দফা দাবি ও কঠোর হুঁশিয়ারি

পথসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারের প্রতি তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন ডাকসুর জিএস ফরহাদ।

দাবিগুলো হলো—

১. ডাকসু, চাকসুসহ দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

২. পিএসসি দখলের চেষ্টা ও সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।

৩. জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসব দাবি মেনে সরকারকে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ বলেন, তাঁরা আরেক দফা আন্দোলনে গিয়ে সরকারের জন্য পালানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে চান না।

তবে সরকার যদি গণতান্ত্রিক অধিকার, তরুণদের ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে আওয়ামী লীগ যে পথে গিয়েছে, সেই পরিণতিই অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের হাত থেকে রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে খুলনাবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানান ডাকসুর জিএস ফরহাদ।