বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভোট দিয়ে বেহেশত লাভ করা যায় না, আমলই আসল।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত নেতা, যিনি সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন এবং নিজের বা পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যাননি। তার সেই আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি দেশের মানুষকে ভালোবেসে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রোববার (৩ মে) বিকালে রাজধানীর হাজারীবাগ পার্ক প্রাঙ্গণে শহীদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি আজিমপুর কবরস্থানে পিন্টুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল এবং তার শাহাদাতের সময় বৃষ্টি হয়েছিল। একইভাবে খালেদা জিয়ার জানাজার দিনও বৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা জনগণের জন্য কাজ করেন, তাদের বিদায়ের সময় বৃষ্টি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের শুভ বার্তা বহন করে এবং তা আত্মার শান্তির প্রতীক।
তিনি শহীদ নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুকে একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে স্মরণ করে বলেন, পিন্টু শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি কর্মীদের প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং সবার খোঁজখবর রাখতেন। জেলখানায় থাকাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, পিন্টু সহকর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন এবং কে কী পছন্দ করেন তা আগেই জেনে রাখতেন। এমন নিবেদিত কর্মী থাকায় বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে টিকে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র একটি বাস্তবতা এবং রাষ্ট্র থাকলে ষড়যন্ত্রও থাকবে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালনে কোনো ধরনের কাপুরুষতা দেখানো যাবে না। জনগণের অভাব-অনটন দূর করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক দায়িত্ব।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি জিয়াউর রহমানের সময় নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, নারীদের রান্নাঘরের বাইরে এনে পুলিশ, বিমানচালক ও সেনাবাহিনীতে কাজের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় কুসংস্কারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের ঘরে আবদ্ধ রাখতে চায় এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তিনি বলেন, শুধু কোনো প্রতীকে ভোট দিলেই বেহেশতে যাওয়া যাবে—এমন ধারণা ভুল। ইসলামের বিধান মেনে চলা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতা দেয় দায়িত্ব পালনের জন্য—জনগণের পাশে থাকা, তাদের চাহিদা পূরণ করা এবং তাদের ভাষা বোঝাই এই দায়িত্বের মূল লক্ষ্য।
তিনি পিন্টুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি দেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত সবাইকে পিন্টুর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।