ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির এবং আহসান উল্লাহ নয়নসহ একাধিক নেতাকর্মী। পদবঞ্চিত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
ঘোষিত কমিটিতে না থাকায় ফেসবুক লাইভে নয়ন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশই রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক এনে আপনারা কমিটিতে বসিয়েছেন, অথচ আমরা এতদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল পালন করেও কমিটিতে জায়গা পাইনি। আওয়ামী লীগের লোকজন জমি-টাকা দখল করে কমিটিতে এসেছে। আমরা জীবন থেকে সবকিছু হারিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, নিজের চাকরির ১৩ দিনের ট্রেনিং ফেলে দলীয় কাজে এসেছি। আমাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। এত ত্যাগের পরও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।
আহসান উল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদেন। পরবর্তীতে ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এলাকাবাসী আমার ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখায়। ফলে ১৩ দিন পর আমাকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই খোলস পাল্টে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদেরই বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির তার ফেসবুক পোস্টে কমিটি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। সুপার ফাইভের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মবিরোধী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা অনেক কর্মী এবার পদ পেয়েছেন। নয়ন জেলা কমিটির কোনো পদে ছিলেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন। জানা গেছে, আহসান উল্লাহ নয়ন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন গ্রুপের কর্মী।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন,আমাদের ইউনিটে হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়দের মূল্যায়ন করা হয়েছে। পদ না পেয়ে কেঁদে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে এসেছে। কমিটি নিয়ে ঢালাওভাবে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তাদের কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
উল্লেখ্য, শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।