জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীর অবদান, চিন্তা ও প্রভাব নিয়ে এক গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ইসলামী ইতিহাস ও চিন্তাধারার বিশিষ্ট গবেষক ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী। বিশ্লেষণে তিনি মওদুদীর অবদান স্বীকারে ‘ন্যায্য মূল্যায়নের’ আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইসলামের জন্য তার খেদমত জাতির সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন এই ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি বলেন, কোনো মনীষীর ভুল-ত্রুটি আলোচনার সময় তাঁর ঐতিহাসিক খেদমত ও অবদানকে উপেক্ষা করা ন্যায়সংগত নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়নই ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মূল দাবি।
রোববার (২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজস্ব ভেরিফাইড আইডিতে মাওলানা আবুল আ'লা মওদুদীকে নিয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ড. সাল্লাবী তাঁর এই বিশ্লেষণে মওদুদীকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মওদুদীর বিশেষত্ব ছিল—ইসলামকে কেবল ইবাদত বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা।
লেখায় তিনি পাশ্চাত্য সভ্যতার বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও বস্তুবাদ—সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং মুসলিম সমাজকে আত্মপরিচয় ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানান।সাল্লাবীর ভাষায়, মওদুদীর এই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম বিশ্বের চিন্তাজগতে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করে।
মওদুদীর রচনাবলির বিশেষ দিক হিসেবে ড. সাল্লাবী উল্লেখ করেন, তাঁর বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি, যুক্তিনির্ভর উপস্থাপন এবং সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গির সংযোগ। তাঁর বিখ্যাত তাফসির “তাফহিমুল কুরআন” এবং অন্যান্য গ্রন্থ মুসলিম পাঠকদের শুধু জ্ঞান দেয় না, বরং চিন্তা করার পদ্ধতিও শেখায়।
সাল্লাবীর মতে, মওদুদীর লেখা পড়লে পাঠক কেবল তথ্য অর্জন করেন না; বরং সমকালীন চিন্তাধারা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের সক্ষমতা অর্জন করেন—যা একটি জাগ্রত ও সচেতন প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মওদুদীর চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে বাস্তব প্রয়োগে অগ্রসর হওয়া। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জামায়াতে ইসলামী, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামী আদর্শকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাস্তবায়ন করা। ড. সাল্লাবীর মতে, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে মওদুদী শুধু তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ ছিলেন না; বরং তিনি একটি পরিবর্তনমুখী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন, যিনি সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক রূপান্তরের চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষণে ড. সাল্লাবী স্বীকার করেন যে মওদুদীর কিছু মতামত ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলেম সমাজে মতভেদ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, একপাক্ষিক সমালোচনা বা কেবল ভুলগুলোর ওপর আলোকপাত করা একটি অসুস্থ প্রবণতা।
তিনি বলেন, “ইনসাফের দাবি হলো—একজন ব্যক্তির অবদান, খেদমত ও ইতিবাচক প্রভাবকে স্বীকার করা, পাশাপাশি তাঁর ভুলগুলোও জ্ঞানভিত্তিকভাবে পর্যালোচনা করা।” এই ভারসাম্য হারিয়ে গেলে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা সংকীর্ণতা ও বিভাজনের দিকে ধাবিত হয় বলে তিনি মনে করেন।
মওদুদীকে নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ড. সাল্লাবীর বার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যের আহ্বান হিসেবে উঠে এসেছে। তাঁর মতে, সমালোচনার পাশাপাশি অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই প্রকৃত ন্যায়বিচার। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা গেলে ইসলামী চিন্তাধারার আলোচনায় ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী লিবিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন খ্যাতনামা ইসলামী ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস, সীরাত এবং ইসলামী পুনর্জাগরণ নিয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
টিআই/
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।