জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন জনগণের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপি যখন বলে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে, তাই তারা যা খুশি তাই করতে পারে—এই বক্তব্য গণভোটের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, নির্বাচনের পর শপথের প্রথম দিনেই বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জনরায় উপেক্ষা করে ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
শনিবার এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির জাতীয় সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় যুবশক্তির ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, সরকারে এসেই হাজার হাজার কোটি টাকা ছাপানো হয়েছে। অর্থ পাচারকারীদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যাংক আইন পরিবর্তন করার মাধ্যমে বোঝা যায় চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু লুটপাটকারীদের ফিরিয়ে আনার মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেবে না এনসিপি। আইনগতভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেন এনসিপির সদস্য সচিব।
সম্প্রতি শাহবাগ থানার ভেতরে পুলিশের সামনেই ডাকসুর দুজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে নির্যাতনের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় বাংলাদেশে কোনো সরকার বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছে, তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সরকার যখন জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, পাম্পগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, পরিবহন মালিকদের দাবিতে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দখল করে সন্ত্রাসী কায়দায় নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করছেন তারেক রহমান। সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে না গিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে বলে আশা করেন আরিফুল ইসলাম আদীব।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে না পারলে ফ্যাসিবাদ বারবার ফিরে আসবে। বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক ঐক্য খুবই জরুরি জানিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানান যুবশক্তির সভাপতি।
জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল বলেন, যুবশক্তি কখনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করেনি। বরং যে কোনো জাতীয় সংকটে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্রপ্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে যাবে।
জুলাইয়ের চেতনা এবং শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নির্মাণে যুবশক্তি কাজ করবে জানিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ, গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে কথা বলে বৈশ্বিক যুব রাজনীতির নতুন প্যারাডাইমের আলোকে যুবশক্তিকে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতীয় যুবশক্তির ঘোষিত ৭ সদস্যের আংশিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: তারিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি তুহিন মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ মাহমুদ মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক কাজী আয়েশা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ এবং সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত।
অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় ও সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পথজুড়ে মানুষের ঢল। কোথাও স্লোগানের গর্জন, কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, আবার কোথাও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।