
অধ্যাদেশ: সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করা নয়
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ে গঠিত ১৪ সদস্যের সংসদীয় কমিটিতে কেবল বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব থাকায় এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ গ্রহণ করলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রহিত বা স্থগিত করার সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগকে পুনরায় নির্বাহী বিভাগের অধীনে রাখার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া, গুম প্রতিরোধ ও দুদকের ক্ষমতা বৃদ্ধির আইনগুলো পাসের পরিবর্তে সংশোধনের নামে ঝুলিয়ে রাখায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণতান্ত্রিক সংস্কারের এই সুযোগ হাতছাড়া করলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
